ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটি আবারও প্রস্তুত পর্যটকের ঢল সামলাতে। কাপ্তাই হ্রদের নীল জল আর সবুজ পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ইতোমধ্যে জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে বুকিং পৌঁছেছে প্রায় ৭০ শতাংশে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বুকিং আরও বাড়বে এবং এবার লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সব সময়ই জনপ্রিয় গন্তব্য রাঙ্গামাটি। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই এই পাহাড়ি শহরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। সেই প্রস্তুতি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

সরেজমিনে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা গেছে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু সংস্কার শেষে নতুন করে রঙ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলছে।

হ্রদভ্রমণের প্রধান মাধ্যম নৌযানগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে পর্যটক পরিবহনের জন্য বোটগুলো ঘষামাজা ও রঙ করে ঘাটে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।

বোট মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, সামনে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবার প্রচুর পর্যটক আসার আশা করা হচ্ছে। সে কারণে আগেভাগেই বোটগুলো মেরামত ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে বুকিং প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

মাঝারি দ্বীপ রিসোর্টের পরিচালক রিকো খীসা বলেন, তাদের রিসোর্টসহ জেলার বেশ কয়েকটি রিসোর্টে প্রায় পূর্ণাঙ্গ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁতের পোশাকের দোকানগুলোতেও নতুন সংগ্রহ আনা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে এসব পোশাক বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী।

পোশাক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা কিছুটা ধীর ছিল। তবে ঈদের ছুটিতে নতুন নকশার পোশাক বিক্রির মাধ্যমে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।

আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটি জোনের উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হবে।