পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি প্রায় শেষ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে। পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগাম বুকিং কম হওয়ায় কিছুটা উদ্বেগে আছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, ঈদের আগের কয়েকদিনে বুকিং বাড়লে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

ঈদের সময় মৌলভীবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় নতুন কিছু নয়। চা-বাগান, পাহাড়, হাওর, বনভূমি ও জলপ্রপাতের সমন্বয়ে এই জেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

জেলার সাতটি উপজেলায় প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি দুই শতাধিক রিসোর্ট ও পর্যটনবান্ধব আবাসন গড়ে উঠেছে। চা-বাগান, পাহাড়ি প্রকৃতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি মিলিয়ে এই অঞ্চল ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র ও হোটেল-রিসোর্টে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার আগাম বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। ঈদের আগে বাকি কয়েকদিনে বুকিং বাড়লে তবেই ব্যবসায় স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

মৌলভীবাজারের উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর, মনিপুরী পল্লী, মনু ব্যারেজ, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, কমলা রানীর দিঘি, পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্ট, আদমপুর বনবিট এবং বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, শমশেরনগর গল্ফ মাঠসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্ট পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত ঈদুল ফিতরের আগে ১৫ রমজানের মধ্যেই ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও কোথাও মাত্র ৫ শতাংশ, আবার কোথাও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বুকিং হয়েছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকটি কারণে এবার পর্যটক কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

শ্রীমঙ্গলের লেমন গার্ডেন রিসোর্টের অপারেশন ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগাম বুকিং খুবই কম। বিশ্ব পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পর্যটনেও পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা অনেক কম। আগে এই সময়ের মধ্যে অন্তত অর্ধেক রুম বুকিং হয়ে যেত। এবার এখন পর্যন্ত খুব কম বুকিং হয়েছে।

এদিকে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করবে।

টুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের সময় শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে। তাই এসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকবে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ এবং টুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকবে যাতে পর্যটকরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।