ঈদের ছুটি মানেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা। পাহাড়, নদী, চা বাগান আর আধ্যাত্মিক পরিবেশের মিশেলে সাজানো এই অঞ্চল ঈদ মৌসুমে পরিণত হয় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে। ২০২৬ সালের ঈদ উপলক্ষে ইতিমধ্যে সিলেটের হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে ধরা হয়। পাহাড়ি ঝরনা, পাথুরে নদী আর সবুজ চা বাগানের সমন্বয় এই অঞ্চলকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
জাফলং
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং দেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র। ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকা পিয়াইন নদীর পাথুরে সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। নদীর স্বচ্ছ পানি, পাহাড়ে ভেসে থাকা মেঘ আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সিলেট শহর থেকে বাস বা সিএনজি করে জাফলং যাওয়া যায়। জিরো পয়েন্ট ঘুরতে নৌকা ভাড়া করতে হয়।

ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর বর্তমানে সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্পটগুলোর একটি। ধলাই নদীর বয়ে আনা সাদা পাথরের স্তূপ আর নীলচে জলরাশি এখানে অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। ব্রিটিশ আমলে পাথর পরিবহনের জন্য নির্মিত রোপওয়ের ধ্বংসাবশেষ এখনও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে রয়েছে। আম্বরখানা থেকে বাসে কোম্পানীগঞ্জ হয়ে নৌকায় করে মূল স্পটে পৌঁছানো যায়।

রাতারগুল জলাবন
গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন। প্রায় তিন হাজার একরের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বন বছরের বড় একটি সময় পানির নিচে থাকে। ডিঙি নৌকায় বনের ভেতর ঘুরে দেখা পর্যটকদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। হিজল, করচ ও বরুণ গাছের পাশাপাশি এখানে নানা প্রজাতির পাখি ও জলজ প্রাণীর দেখা মেলে।

বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই
মেঘালয় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বিছিয়ে থাকা পাথুরে জলধারা বিছনাকান্দির প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়ের বিভিন্ন খাঁজ থেকে নেমে আসা ঝরনা এক জায়গায় মিলিত হয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে। কাছেই পান্তুমাই গ্রাম, যেখানে সীমান্তঘেঁষা বড়হিল ঝরনা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

আধ্যাত্মিক পর্যটন
সিলেটকে ‘৩৬০ আউলিয়ার দেশ’ বলা হয়। হযরত শাহজালাল ও শাহপরান রহ. এর মাজার এই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন দেশি বিদেশি অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার চৌধুরী জানান, ঈদ উপলক্ষে জাফলং, সাদা পাথর, রাতারগুল, বিছনাকান্দিসহ সব পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের নজরদারি ও মোবাইল টিম টহল দেবে। নৌভ্রমণে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।