বাংলাদেশের উপকূলীয় পর্যটনের তালিকায় ধীরে ধীরে আলাদা করে জায়গা করে নিচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপ। কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত এই দ্বীপ উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠছে নতুন আকর্ষণ। নির্জন সমুদ্র সৈকত, বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, লবণ মাঠ আর আধ্যাত্মিক পরিবেশ কুতুবদিয়াকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
প্রায় ২১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কুতুবদিয়া দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে। ইতিহাসবিদদের মতে, চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ দিকে এই দ্বীপের উত্থান ঘটে এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে এখানে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে। পরহেজগার ব্যক্তি কুতুবুদ্দীন এখানে আস্তানা গড়ে তোলেন এবং আরাকান থেকে বিতাড়িত মুসলমানদের আশ্রয় দেন। তার নামানুসারেই ‘কুতুবুদ্দীনের দিয়া’ থেকে কালের পরিক্রমায় দ্বীপটির নাম হয় কুতুবদিয়া।
দ্বীপের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুতুবদিয়া চ্যানেল, কুতুব আউলিয়ার দরবার শরিফ, পুরোনো ও নতুন বাতিঘর, প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত এবং দেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রতি বছর ৭ ফাল্গুন কুতুব আউলিয়ার ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।
কুতুবদিয়ার সমুদ্র সৈকত তুলনামূলকভাবে নির্জন ও শান্ত। এখানে পর্যটকের চেয়ে জেলেদের কর্মচাঞ্চল্য বেশি চোখে পড়ে। সৈকতে গাংচিলের উড়াউড়ি আর সূর্যাস্তের দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। ভিড়বিহীন পরিবেশে সময় কাটাতে চান এমন ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি আদর্শ স্থান।
দ্বীপের দক্ষিণাংশে অবস্থিত বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় এক হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি শীত মৌসুমে প্রাকৃতিক উপায়ে লবণ চাষ কুতুবদিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে সড়কপথে চকরিয়া উপজেলার মগনামা ঘাটে এসে ইঞ্জিন নৌকা বা স্পিড বোটে কয়েক মিনিটেই কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দ্বীপে পৌঁছানো যায়। বড়ঘোপ বাজার এলাকায় সীমিত পরিসরে আবাসিক হোটেল রয়েছে। নিরিবিলি পরিবেশের কারণে ক্যাম্পিংয়ের জন্যও কুতুবদিয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তবে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড না থাকায় জেনারেটর ও সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়। সাগরে নামার ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রা।