ঈদের ছুটি মানেই অনেকের কাছে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা প্রশান্তি খোঁজা। পাহাড় আর হ্রদের শান্ত পরিবেশে কয়েকটি দিন কাটাতে চাইলে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে রাঙামাটি। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, পাহাড়ঘেরা নৈসর্গিক পরিবেশ এবং হ্রদের পাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবকাশকেন্দ্র এখন পর্যটকদের কাছে নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করছে।
রাঙামাটিতে এখন শুধু আবাসিক হোটেল নয়, গড়ে উঠেছে অনেক অবকাশকেন্দ্র। এসব জায়গায় থেকে ভোরের সূর্যোদয় দেখা, সন্ধ্যার সূর্যাস্ত উপভোগ করা, হ্রদের জলে নৌবিহার বা নীরব প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি জানান, বছরের এই সময়ে রাঙামাটির প্রকৃতিতে কিছুটা ধূসরতা থাকলেও সেটিই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আলাদা এক শান্ত অনুভূতি তৈরি করে। ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন অবকাশকেন্দ্রে পর্যটক বরণের প্রস্তুতি চলছে।
ঝুলন্ত সেতুর পাশে নিরিবিলি আবাস
রাঙামাটি শহরের পুরোনো ও পরিচিত থাকার জায়গাগুলোর একটি হলো পর্যটন মোটেল। ঝুলন্ত সেতুর কাছেই অবস্থিত এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। হ্রদের দৃশ্য দেখতে দেখতে বিকেলের চা পান কিংবা সন্ধ্যায় হাঁটাহাঁটির সুযোগ এখানে সহজেই পাওয়া যায়।
আসামবস্তি কাপ্তাই সড়কে অবকাশকেন্দ্রের বিস্তার
রাঙামাটি থেকে আসামবস্তি হয়ে কাপ্তাই পর্যন্ত সড়কটি এখন দেশের অন্যতম সুন্দর পাহাড়ি পথ হিসেবে পরিচিত। এই সড়কের পাশে গত কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অবকাশকেন্দ্র। সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথেও এসব স্থানে যাওয়া যায়, যা ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
হ্রদঘেরা দ্বীপে অনন্য অভিজ্ঞতা
ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা রাঙা দ্বীপ অবকাশকেন্দ্র পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত এই দ্বীপ থেকে চারদিকে পাহাড় আর জলরাশির বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় প্রকৃতির রূপ এখানে ভিন্ন মাত্রা পায়।
নদী ও হ্রদের মিলনে নীরব পরিবেশ
কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে অবস্থিত বার্গী লেক ভ্যালি শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। এখানে অবস্থান করলে ঘর থেকেই হ্রদের দৃশ্য দেখা যায়। যানবাহনের কোলাহল নেই বললেই চলে, চারপাশে থাকে শুধু প্রকৃতির শব্দ।
সূর্যাস্ত দেখার বিশেষ আয়োজন
বড়গাং, রেং ও ইজোর এলাকার পাহাড়ি ঢালে গড়ে ওঠা কয়েকটি অবকাশকেন্দ্রে সূর্যাস্ত দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। বিকেলের শেষ আলো হ্রদের জলে পড়লে চারপাশে সোনালি আভা তৈরি হয়, যা অনেক পর্যটকের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
বনভূমির মাঝে ভিন্ন অভিজ্ঞতা
প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের মধ্যে গড়ে ওঠা রান্যা টুগুন অবকাশকেন্দ্র প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে। এখানে হ্রদে নৌবিহার, মাছ ধরা কিংবা পাখির ডাক শুনে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। কখনো কখনো বনের পাখি ও বনমোরগের উপস্থিতিও দেখা যায়।
হ্রদ নদীর মোহনায় অবকাশযাপন
জুমকিং ও গাড়পাড় এলাকায় গড়ে ওঠা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্রগুলোও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। হ্রদ ও নদীর মিলনস্থলের এই অঞ্চল প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সময় কাটানোর সুযোগ দেয়।
দর্শনীয় স্থান
রাঙামাটিতে ঘোরার মতো জায়গার মধ্যে রয়েছে কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার রাজবাড়ি, পলওয়েল পার্ক ও জেলা প্রশাসকের বাংলো এলাকা। কাছাকাছি পাহাড়ি সৌন্দর্যের জন্য সাজেক উপত্যকাও অনেকের ভ্রমণতালিকায় থাকে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
রাঙামাটি যেতে হলে সাধারণত চট্টগ্রাম হয়ে যেতে হয়। চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত পাহাড়িকা বাস চলাচল করে। ভাড়া প্রায় ১৪০ টাকা।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসেও যাওয়া যায়। সাধারণ বাসভাড়া প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে ভাড়া দেড় হাজার থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে।
আকাশপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিমানভাড়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে রাঙামাটি যেতে মাইক্রোবাস ভাড়া প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
বুকিং ও প্রস্তুতি
ঈদের ছুটিতে পর্যটকের চাপ বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ভালো। সরকারি মোটেল কিংবা বেসরকারি অবকাশকেন্দ্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাতা বা হটলাইনের মাধ্যমে অগ্রিম বুকিং করা যায়।