ভ্রমণ মানেই অঢেল খরচ, এমন ধারণা অনেকের। অথচ একটু পরিকল্পনা আর কিছু সহজ কৌশল জানলে দেশের ভেতরেই কম বাজেটে ঘুরে আসা সম্ভব। পরিবহন, থাকা আর খাওয়ার খরচই যেখানে মোট ব্যয়ের বড় অংশ, সেখানে সচেতন সিদ্ধান্ত নিলেই সাশ্রয় করা যায় উল্লেখযোগ্য অঙ্ক।
দেশে এক হাজারের বেশি পর্যটন স্থান রয়েছে। তবু অনেকেই মনে করেন ভ্রমণ মানেই বাড়তি চাপ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পর্যটন হিসাব প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে সেন্টমার্টিন ট্যুরিজমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি বলেন, ভ্রমণকারীদের মোট ব্যয়ের মধ্যে পরিবহনে যায় ৩৬ শতাংশের বেশি। এরপর থাকে থাকা, খাওয়া ও কেনাকাটার খরচ। তার মতে, আগেভাগে পরিকল্পনা ও তথ্য সংগ্রহই খরচ কমানোর মূল চাবিকাঠি।
পরিকল্পনাই প্রথম শর্ত
গন্তব্য ঠিক করার পর সম্ভাব্য খরচের একটি তালিকা তৈরি করা জরুরি। যেমন টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে চাইলে সিলেট থেকে তাহিরপুর পর্যন্ত বাসভাড়া, এরপর নৌকা ভাড়া কত, তা আগে জেনে নেওয়া ভালো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভ্রমণভিত্তিক গ্রুপ বা পরিচিত ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। কোন পথে গেলে সময় ও টাকা বাঁচে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভাড়া কম হয়, এমন তথ্য আগেই জেনে রাখা সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
পরিবহনে সাশ্রয়
দূরপাল্লায় ট্রেন বা শীতাতপবিহীন বাস ব্যবহার করলে খরচ অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা থেকে সিলেট রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের তুলনায় সাধারণ বাসে ভাড়া কয়েকশ টাকা কম। রাতের যাত্রা বেছে নিলে এক রাতের থাকার খরচও বাঁচে। দলগতভাবে গেলে চান্দের গাড়ি, নৌকা বা লেগুনার ভাড়া ভাগ করে নেওয়া যায়।
থাকার বিকল্প ব্যবস্থা
হোটেলের পাশাপাশি হোস্টেল, ডরমিটরি, অতিথিশালা বা হোমস্টে বেছে নেওয়া যেতে পারে। পর্যটন মৌসুমের বাইরে যেমন অক্টোবর থেকে নভেম্বর বা ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চে গেলে কক্সবাজার, কুয়াকাটা কিংবা সেন্টমার্টিনে কক্ষভাড়া প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। রাঙামাটি বা সুন্দরবনে স্থানীয়দের বাসা বা নৌযানে থাকার ব্যবস্থাও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। আগে থেকে বুকিং দিলে অনেক জায়গায় বিশেষ ছাড় মেলে।
খাবারে সচেতনতা
স্থানীয় খাবার খেলে খরচ কমে। স্থানীয় খাবার হোটেলে স্বল্প দামে ভাত, সবজি, ডাল ও মুরগি পাওয়া যায়। প্রস্তুত বা হিমায়িত খাবারের বদলে তাজা খাবার বেছে নেওয়া ভালো। ভ্রমণে শুকনা খাবার সঙ্গে রাখলেও অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়।
ঢাকার শিক্ষার্থী সাফওয়ান বিন এ হক জানান, দলগত ভ্রমণে খরচ অনেক কমে। বান্দরবানে ১০ থেকে ১২ জন মিলে যানবাহন ভাড়া করলে জনপ্রতি ব্যয় কম পড়ে। অনেক সময় অন্য দলের সঙ্গে ভাড়া ভাগ করেও সাশ্রয় সম্ভব।
কম খরচে ঘোরার জন্য কুয়াকাটা, লালাখাল, কলমাকান্দা, সীতাকুণ্ড, টাঙ্গুয়ার হাওর, জাফলং, রাতারগুল ও বিছনাকান্দি জনপ্রিয়। সঠিক পরিকল্পনা, দলগত যাত্রা ও মৌসুম বিবেচনায় রাখলে সীমিত বাজেটেও দেশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।