রমজান শুরু হতেই দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে যেন হঠাৎ থেমে গেছে। যে সৈকতে সাধারণ সময় হাঁটার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়, সেখানে এখন শুধু ঢেউয়ের শব্দ আর ফাঁকা চেয়ার-ছাতার সারি। পর্যটকের অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে সৈকতঘেঁষা ব্যবসা-বাণিজ্য, আর হোটেলগুলো বড় ছাড় দিয়েও পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া।

সৈকতজুড়ে নীরবতা

শনিবার সকাল থেকে লাবনী, কলাতলী, সুগন্ধা ও সিগাল পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে সাজানো রয়েছে শত শত চেয়ার-ছাতা, কিন্তু বসার মানুষ নেই। ঢেউ ভাঙছে নিয়মিত, অথচ সমুদ্রে নামার মতো পর্যটক হাতে গোনা।

জেটস্কি চালক সোনা মিয়া জানান, সকাল থেকে প্রস্তুত থাকলেও কোনো যাত্রী মেলেনি। অপেক্ষা করেই সময় কাটছে তাদের।

আয়হীন দিন কাটছে সংশ্লিষ্টদের

সৈকতকেন্দ্রিক সহস্রাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন প্রায় কর্মহীন। ভ্রাম্যমাণ ফটোগ্রাফাররা ক্যামেরা হাতে বসে আছেন কাজের আশায়। ঘোড়াওয়ালারা বলছেন, সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও ঘোড়ার খাবারের খরচ উঠছে না।

ফটোগ্রাফার গফুর উদ্দিন বলেন, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ভালো আয় হলেও রমজানে কাজ প্রায় বন্ধ। অল্প কিছু স্থানীয় মানুষ ছাড়া ছবি তোলার মতো পর্যটক নেই।

শামুক-ঝিনুক ও সামুদ্রিক পণ্যের বিক্রেতারাও একই সংকটে। অনেকেই বলছেন, দোকান খুলে বসে থাকলেও বিক্রি না হওয়ায় বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

লাইফগার্ডদেরও কমেছে ব্যস্ততা

সমুদ্রে গোসল করতে পর্যটক না থাকায় লাইফগার্ডদের কাজও কমে গেছে। তারা জানান, জমজমাট পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতেই অভ্যস্ত ছিলেন, এখন দীর্ঘ সময় অলস বসে থাকতে হচ্ছে।

হোটেলে বড় ছাড় তবু কক্ষ ফাঁকা

রমজান উপলক্ষে পাঁচ শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট কক্ষভাড়ায় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে। অনেক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষের ভাড়া নেমে এসেছে প্রায় ৫০০ টাকায়। তবুও দখল হার অত্যন্ত কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ কক্ষই খালি পড়ে আছে।

হোটেল মালিকরা জানান, রমজানকে তারা সাধারণত প্রস্তুতির সময় হিসেবে নেন। এ সময়ে সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজ করা হয়, যাতে ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটক সামলানো যায়।

ঈদ ঘিরে নতুন আশার অপেক্ষা

ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের প্রত্যাশা, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে সৈকত। তখন জমে উঠবে পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, সচল হবে হাজারো মানুষের জীবিকা।