শহরের কোলাহল আর যান্ত্রিক জীবনের বাইরে প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে এখন অনেকেই ছুটছেন গ্রামে। সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে গড়ে ওঠা এক বিশাল সূর্যমুখী বাগান। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা উজ্জ্বল হলুদ সূর্যমুখী ফুল শ্রীপুরে তৈরি করেছে নতুন পর্যটন আকর্ষণ।
কৃষি উদ্যোক্তা কবির হোসেনের এই সূর্যমুখী বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা ও আশপাশের জেলার দর্শনার্থীরা। পরিবার নিয়ে কেউ প্রকৃতি উপভোগ করছেন, কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, সূর্যমুখী একটি লাভজনক তেলবীজ ফসল। পাশাপাশি এর সৌন্দর্য গ্রামীণ পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। পরিকল্পিতভাবে এ উদ্যোগ বিস্তৃত হলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
গত বছর ফাতেমা নগর এলাকায় কয়েক বিঘা জমিতে প্রথম সূর্যমুখী চাষ শুরু করেন কবির হোসেন। মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিকভাবে তেল উৎপাদন। তবে ফুল ফোটার পর বাগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়তে থাকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চলতি মৌসুমে প্রায় দুই একর জমিতে বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করেছেন তিনি।
শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, গফরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। ইউটিউবার ও ব্লগারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে। দর্শনার্থীরা বলছেন, এমন খোলা পরিবেশ মানসিক প্রশান্তি দেয়।
তবে ফসল রক্ষায় এবার প্রতিজন দর্শনার্থীর জন্য ৩০ টাকা প্রবেশ টিকিট চালু করা হয়েছে। উদ্যোক্তা জানান, গত দুই দিনে প্রায় তিন হাজার মানুষ বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত প্রদর্শনী চলতে পারে।
কবির হোসেন বলেন, প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। লাভের নিশ্চয়তা না থাকলেও মানুষের আনন্দই তার বড় প্রাপ্তি। ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে তিনি টিউলিপ চাষের পরিকল্পনাও করেছেন।