হোটেলে উঠেই ব্যাগ খুলে আরাম করার আগে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের অনেকেই একটি দ্রুত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালান। তারা মজা করে এটিকে বলেন ‘হোটেল রুম অটোপসি’। মাত্র দেড় মিনিটের এই ছয় ধাপের পরীক্ষা তাদের থাকার জায়গাটি নিরাপদ কি না, তা বুঝতে সাহায্য করে।
বছরে শত শত রাত হোটেলে কাটান এমন এয়ারলাইন ক্রুদের মধ্যে এই অভ্যাস বেশ প্রচলিত। দরজার লক পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে জরুরি বহির্গমনের অবস্থান চিহ্নিত করা—সবই এর অংশ।
অনলাইন এভিয়েশন রিসোর্স ‘কেবিন ক্রিউ টোয়েন্টিফোরের’ মতে, এটি কোনো অযথা উদ্বেগের অভ্যাস নয়; বরং বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি। খবর: ফক্স নিউজ
প্রথম ধাপে তারা পুরো কক্ষটি চোখ বুলিয়ে দেখেন। দরজা খোলা রেখে নিশ্চিত হন, কক্ষে অন্য কেউ নেই এবং হাউসকিপিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর বাথরুম, শাওয়ার, বাথটাব, আলমারি ও পর্দার পেছনের মতো জায়গাগুলো পরীক্ষা করেন।
তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে কাছের জরুরি বহির্গমন পথ খুঁজে নেন। কক্ষের দরজার পেছনে থাকা জরুরি নির্গমন মানচিত্রও দেখে নেন। শুধু পথটি কোথায়, তা জানাই যথেষ্ট নয়। কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাঁয়ে না ডানে যেতে হবে, সিঁড়িঘর কতটা দূরে এবং পথে আনুমানিক কতটি দরজা পার হতে হবে—এসবও মনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চতুর্থ ধাপে দরজার সব লক ঠিকমতো কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করা হয়। এরপর কক্ষের ফোন সচল আছে কি না দেখে নেন। মোবাইল ফোনে সমস্যা হলে এই ফোন দিয়েই হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক বা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করা যেতে পারে।
কেউ হোটেলকর্মী পরিচয়ে দরজায় এলেও পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে দরজা না খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আগে ফ্রন্ট ডেস্কে ফোন করে যাচাই করা যায়।
শেষ ধাপে দরজার নিচে পোর্টেবল ডোর অ্যালার্ম বা ডোর ওয়েজ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে পারে, বিশেষ করে একা ভ্রমণকারীদের।
এ ছাড়া ভ্রমণের সময় ছোট একটি টর্চ সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সতর্কতার উদ্দেশ্য ভ্রমণকে ভয় পাওয়ানো নয়; বরং নতুন জায়গায় নিজের আশপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকা।