সমুদ্র, পাহাড়, লবণ মাঠ আর আদিনাথ মন্দিরের জন্য পরিচিত কক্সবাজারের মহেশখালীতে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পর্যটনস্থল। গোরকঘাটার বড় রাখাইন পাড়ায় অবস্থিত বড় রাখাইন পাড়া বৌদ্ধ মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, রাখাইন সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও জীবনযাপনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি পর্যটন তথ্যেও স্থানটিকে মহেশখালীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্দিরটির ইতিহাসও বেশ পুরোনো। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মূল মন্দিরটি আনুমানিক ২৮৩ বছর আগে নির্মিত হয়। সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করা হয়েছে এবং বর্তমান মন্দিরটি ২০০৪ সালের ৭ ডিসেম্বর পুনর্নির্মাণ করা হয়।
মন্দির প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপত্য, বিভিন্ন মূর্তি ও ঐতিহ্যের নিদর্শন দেখা যায়। এখানে থাকা বড় পিতলের বুদ্ধমূর্তিটির বয়স প্রায় ১০১ বছর বলে সরকারি তথ্য উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে একটি গাছ খোদাই করে তৈরি দাঁড়ানো বুদ্ধমূর্তিও রয়েছে, যেটিকে বিরল নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বড় রাখাইন পাড়া শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়। মহেশখালীতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত রাখাইন জনগোষ্ঠীর ভাষা, পোশাক, খাবার, উৎসব ও ধর্মীয় আচার স্থানীয় সংস্কৃতিতে আলাদা বৈচিত্র্য যোগ করেছে। মন্দিরে গেলে সেই সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
কক্সবাজার শহর থেকে মহেশখালী যেতে নৌপথও ব্যবহার করা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের বিভিন্ন ঘাট থেকে নৌযান বা দ্রুতগতির নৌযানে মহেশখালী জেটিঘাটে গিয়ে সেখান থেকে রিকশা বা মোটরযানে বড় রাখাইন পাড়ায় পৌঁছানো যায়।
একই ভ্রমণে আদিনাথ মন্দির, পাহাড়ি এলাকা, লবণ মাঠ ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যেতে পারে। ফলে মহেশখালী ভ্রমণে ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসঙ্গে দেখার সুযোগ মেলে।
মন্দিরে ভ্রমণের সময় শালীন পোশাক পরা, ধর্মীয় পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো এবং ছবি তোলার আগে অনুমতি নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ধর্মীয় আচার চলার সময় দর্শনার্থীদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।