স্থাপত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূমধ্যসাগরের সৌন্দর্যের সমন্বয়ে স্পেনের বার্সেলোনা ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী। তবে শহরটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে সাগ্রাডা ফামিলিয়া। বিশ্বখ্যাত স্থপতি আন্তোনি গাউদির পরিকল্পনায় নির্মিত এই অনন্য স্থাপনা দেখতে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় অর্ধকোটি পর্যটক বার্সেলোনায় আসেন।
স্পেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর বার্সেলোনা ফ্রান্সের সীমান্তের কাছাকাছি এবং ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত। প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এই শহর দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পুরোনো ভবন, ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও আধুনিক নগরজীবনের সহাবস্থান শহরটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সাগ্রাডা ফামিলিয়া
১৮৮২ সালে সাগ্রাডা ফামিলিয়ার নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকৃতি, জ্যামিতি, ধর্মীয় প্রতীক, গথিক ও শিল্পনবীন স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে গাউদি এর নকশা তৈরি করেন। জীবনের শেষ বছরগুলো তিনি এই প্রকল্পে উৎসর্গ করেন।
১৯২৬ সালের ৭ জুন ট্রামের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন গাউদি। তিন দিন পর ১০ জুন তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরও সাগ্রাডা ফামিলিয়ার নির্মাণ ও নকশা নিয়ে কাজ অব্যাহত থাকে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই জটিল স্থাপনার কাজ সম্পন্ন করা স্থপতি ও প্রকৌশলীদের জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ ছিল।
গাউদির স্থাপত্যের শহর
বার্সেলোনায় গাউদির আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি রয়েছে। এর মধ্যে কাসা বাত্লো, কাসা মিলা ও পার্ক গুয়েল অন্যতম। কাসা বাত্লোর ঢেউখেলানো দেয়াল ও ব্যতিক্রমী নকশা এবং পার্ক গুয়েলের মোজাইক ও বাঁকানো স্থাপত্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
শহরের প্রাণকেন্দ্র প্লাসা দ্য কাতালোনিয়া ও লা রাম্বলা পর্যটকদের ব্যস্ততম এলাকা। পথশিল্পী, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নগরজীবনের বৈচিত্র্যে এসব স্থান সবসময় প্রাণবন্ত থাকে।
এ ছাড়া গথিক কোয়ার্টার, মন্তজুইক পাহাড় ও দুর্গ, পিকাসো জাদুঘর, এফসি বার্সেলোনার ক্যাম্প নউ এবং সমুদ্রতীরবর্তী বিশাল অ্যাকুয়ারিয়ামও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
সহজ নগর পরিবহন
বার্সেলোনায় বাস ও ট্রামের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করা যায়। পর্যটকদের জন্য সিটি ট্যুর বাসও রয়েছে। ৩৩ ইউরোর টিকিটে ২৪ ঘণ্টা এই বাসে শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট স্থানে নেমে ঘোরার পর আবার বাসে ওঠার সুবিধাও রয়েছে।
জুলাই ও আগস্টে বার্সেলোনায় পর্যটকের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় আবাসন ও অন্যান্য পর্যটনসেবার খরচও বাড়তে পারে। ফলে ভ্রমণের আগে থাকার জায়গা, দর্শনীয় স্থানের প্রবেশমূল্য ও পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিকল্পনা করে নেওয়া পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক।