বসন্ত এলেই প্রকৃতি নিজেকে সাজায় নতুন রঙে। আর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রাম যেন এই ঋতুতে রূপ নেয় আগুনরঙা এক স্বপ্নভূমিতে। যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড় ঘেঁষে থাকা শিমুলবাগানে ফুটে ওঠা লাল ফুলের সমারোহ বসন্তকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। এই অনন্য সৌন্দর্যকে ঘিরে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি সেখানে দিনব্যাপী বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বসন্ত এলে পুরো শিমুলবাগান ঢেকে যায় রক্তিম ফুলে। ডালভরা শিমুল আর মাটিজুড়ে ঝরে থাকা পাপড়িতে এলাকাটি যেন লাল চাদরে মোড়া। নদী হাওর আর দূরের পাহাড়ের মিলিত দৃশ্য এই বাগানকে করে তুলেছে জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। বসন্ত মৌসুমে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ২০০০ সালে বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে তিন হাজার শিমুলগাছ রোপণ করে এই বাগান গড়ে তোলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা বাগানটির দেখভাল করছেন। আজ এই শিমুলবাগান শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, সংস্কৃতির মিলনস্থল হিসেবেও পরিচিত।

২০২৩ সাল থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এখানেই নিয়মিত বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। লাল ফুলের ছায়ায় গান, নাচ আর কবিতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আজকের উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের বসন্তের গান দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে অংশ নেন জেলার প্রায় ২০০ জন শিল্পী। দিনভর সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, আদিবাসী ও পাহাড়ি নৃত্য এবং বাউল গানে জমে ওঠে উৎসব।

দর্শনার্থীদের মাঝেও ছিল প্রবল উচ্ছ্বাস। সিলেট থেকে আসা রাকিব উদ্দীন হিমেল বলেন, সামনে এসে শিমুলের লাল আর যাদুকাটার নীল জল একসঙ্গে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। সময় কিভাবে কেটে গেছে টের পাইনি। ঢাকার বিক্রমপুর থেকে আসা তাসনিয়া রহমান জানান, শহরের কোলাহল ভুলে প্রকৃতির মাঝে গান শোনা সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এখানে থাকার ব্যবস্থা আরও ভালো হলে ভ্রমণকারীরা উপকৃত হতেন।

স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের এলাকার এই জায়গা সারা দেশে পরিচিত হচ্ছে, এটা গর্বের। তবে সৌন্দর্য ধরে রাখতে পরিচ্ছন্নতা আর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

শিমুলবাগানের দেখভালকারী পরিবারের সদস্য রাখাব উদ্দিন জানান, দর্শনার্থীদের জন্য ক্যানটিন ও বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে রিসোর্ট ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও আছে।