বিশ্ব পর্বতারোহণের ইতিহাসে নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজার নাম উচ্চারিত হয় অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রতীক হিসেবে। 
নেপালের প্রত্যন্ত মিয়াগদি জেলায় একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি একসময় ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য। 

পরে যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাহিনী স্পেশাল বোট সার্ভিসে (এসবিএস) যোগ দিয়ে কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন। কিন্তু তাঁর প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয় বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতগুলোর চূড়ায়।

পর্বতারোহণে তুলনামূলক দেরিতে এলেও অল্প সময়েই বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন নির্মল পুরজা। ২০১৯ সালে তিনি শুরু করেন ‘প্রজেক্ট পসিবল’ নামে দুঃসাহসিক এক অভিযান। লক্ষ্য ছিল বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতশৃঙ্গ সবচেয়ে কম সময়ে জয় করা। যেখানে আগের বিশ্বরেকর্ড ছিল প্রায় আট বছর, সেখানে নির্মল মাত্র ১৮৯ দিন সবকটি শৃঙ্গ জয় করে ইতিহাস গড়েন। এই কীর্তি তাঁকে রাতারাতি বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহীতে পরিণত করে।

এরপরও তিনি থেমে থাকেননি। ২০২১ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কে-টু প্রথমবারের মতো শীতকালে জয়ের ঐতিহাসিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘদিন ধরে অসম্ভব বলে বিবেচিত এই অভিযানে তাঁর নেতৃত্বে নেপালের ১০ সদস্যের দল সফল হয়। বিশ্বের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এটি অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

নির্মল পুরজা শুধু নিজের রেকর্ড গড়েননি, বিপদে পড়া বহু পর্বতারোহীর জীবনও বাঁচিয়েছেন। এভারেস্ট, অন্নপূর্ণা ও কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ বিভিন্ন পর্বতে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি অসংখ্যবার মানবিকতার নজির স্থাপন করেন। তার মতে, শৃঙ্গ জয়ের চেয়েও মানুষের জীবন বেশি মূল্যবান।
নির্মল পুরজার অসাধারণ অভিযাত্রা বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পায় নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় নেটফ্লিক্সের ‘ফোরটিন পিকস: নাথিং ইস ইমপসিবল’ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে। সেখানে তাঁর সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য মানসিক শক্তি কোটি দর্শককে অনুপ্রাণিত করে।

ব্রড পিকে তুষারধসে তার মর্মান্তিক মৃত্যু বিশ্ব পর্বতারোহণ অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তার রেখে যাওয়া রেকর্ড, নেতৃত্ব, সাহস এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার মানসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পর্বতারোহীদের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।