পেরুর বিখ্যাত নাজকা লাইনস প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিদেশি পর্যটকদের বহনকারী একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু পর এ দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির ১৩ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে রাজধানী লিমা থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে পিসকো শহরে। স্থানীয় বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কর্মকর্তা জর্জ আন্দ্রেদ সাংবাদিকদের বলেন, উড়োজাহাজে থাকা ১১ যাত্রী ও দুই ক্রুর সবাই নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, "দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখেই বোঝা গেছে, এখানে কেউ বেঁচে নেই। আমরা এখন পর্যন্ত চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছি।"
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পেরুর বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ১১ যাত্রীর সবাই বিদেশি পর্যটক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরপিপি রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে সাতজন ইতালির, দুজন জার্মানির এবং একজন স্পেনের নাগরিক। অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
নাজকা লাইনস ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় অঙ্কিত বিশালাকৃতির রহস্যময় নকশাগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে আকাশপথ থেকেই দেখা যায়। এ কারণে পিসকো ও নাজকা অঞ্চল থেকে ছোট উড়োজাহাজে দর্শনভ্রমণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এর আগে ২০২২ সালে পেরুতে আরেকটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছিলেন। ২০১০ সালেও পর্যটকবাহী একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় যুক্তরাজ্যের চার পর্যটক এবং পেরুর দুই ক্রুর মৃত্যু হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
• নিহত: ১৩ জন
• বিদেশি পর্যটক: ১১ জন
• ক্রু: ২ জন
• দুর্ঘটনাস্থল: পিসকো, পেরু
• গন্তব্য: নাজকা লাইনস
• তদন্ত করছে: পেরুর বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ