মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের সফর পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিমান চলাচল, আকাশসীমা ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের দেশ ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে অথবা দ্রুত সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে এই অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা পুনর্বিবেচনারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো একই ধরনের সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।
পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির সময় অনেক ক্ষেত্রে বিমান সংস্থা ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে। কিছু দেশের আকাশসীমায় বিধিনিষেধও আরোপ হতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক সংযোগ ফ্লাইটেও বিলম্ব দেখা দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রীদের সর্বশেষ সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ, বিমান সংস্থার বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিকল্প ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং ভ্রমণ বীমার শর্তও আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান।
প্রয়োজন হলে দ্রুত দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
নতুন ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ।
ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ ও ভ্রমণ বিঘ্নের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাস একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে।