রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে চলমান ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে পর্যটন শিল্পে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় পর্যটননির্ভর মানুষের আয় ব্যাপকভাবে কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রুশ সরকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিমিয়ার দক্ষিণ উপকূলের জনপ্রিয় অবকাশকেন্দ্র সিমেইজে এবার গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম অনেকটাই নিস্তেজ। প্রায় আড়াই হাজার মানুষের এই উপকূলীয় জনপদের আইসক্রিম বিক্রেতা আনাতোলি জানান, একসময় প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি আইসক্রিম বিক্রি হলেও এবার ব্যবসা প্রায় নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, এ মৌসুমে লোকসানে পড়েছেন। আগের ব্যবসার সামান্য অংশ দিয়ে এখন কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। যন্ত্রপাতি, মেরামত, লাইসেন্স ও কর আগেই পরিশোধ করা থাকায় এখনও টিকে আছেন।

একসময় প্রতিবছর লাখো রুশ পর্যটকের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল কৃষ্ণসাগর উপকূলের ক্রিমিয়া। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, প্রায় সারা বছরের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া এবং জলপাই বাগানের কারণে অঞ্চলটি অনেকের কাছে ভূমধ্যসাগরীয় পরিবেশের অনুভূতি দেয়। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেই আকর্ষণে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় হোটেল বুকিং ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে। অনেক হোটেল পর্যটক আকর্ষণে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে। তবুও রেস্তোরাঁ, সুইমিং পুল ও সৈকতসংলগ্ন অবকাশকেন্দ্রগুলোতে আগের মতো ভিড় নেই।

পর্যটন খাতের ওপর চাপ কমাতে রুশ সরকার পর্যটনকর্মী, ভ্রমণ সংস্থা, ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্য ৪৩০ কোটির বেশি রুবল, প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ এককালীন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ সহায়তা ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে শিল্প পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট নয়।

এদিকে ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেভাস্তোপোলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তেল ডিপোতে হামলার পর কিছু সময়ের জন্য জ্বালানি বিক্রিও স্থগিত করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বর্তমানে রাশিয়া থেকে কের্চ সেতু হয়ে ট্রেনে যাতায়াতই কার্যত প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে সব পর্যটক ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, নিয়মিত ড্রোনের শব্দ শুনলেও তারা ভ্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। আবার অনেকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় অতিরিক্ত জ্বালানি সঙ্গে নিয়ে ক্রিমিয়ায় এসেছেন।

২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে। এরপর থেকে অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিমিয়ার পর্যটন খাত সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • গত বছরের তুলনায় হোটেল বুকিং কমেছে ৭০ শতাংশের বেশি।
  • পর্যটক টানতে হোটেলগুলো ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে।
  • পর্যটন খাতের জন্য ৪৩০ কোটির বেশি রুবল সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে রুশ সরকার।
  • নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকট পর্যটন শিল্পে বড় প্রভাব ফেলছে।