মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কের মধ্যে দুই দফা টোল আদায়কে কেন্দ্র করে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের দাবি, অতিরিক্ত টোল, পার্কিংয়ের নামে অর্থ আদায় এবং হয়রানির কারণে গত দুই সপ্তাহে ঘাটে আগত পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে পদ্মাপাড়কেন্দ্রিক পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ও মন্দা দেখা দিয়েছে।

ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশমুখে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পিকনিক বাস থামিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল থেকে দুই দফায় ৬০ টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই রসিদ ছাড়াই অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

পর্যটকদের অভিযোগ, ঘাট এলাকায় গাড়ি পার্কিং করলেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন দর্শনার্থী। সম্প্রতি টোল আদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে আসা কয়েকজন পর্যটককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১ জুলাই এক কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় শিমুলিয়া ঘাট ইজারা দেওয়া হয় স্থানীয় ঠিকাদার আলমগীর হোসেনকে। এরপর থেকেই নতুন টোল ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সুমনা আক্তার বলেন, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়কে যে পরিমাণ টোল দিতে হয়েছে, ঘাটের মাত্র আধা কিলোমিটার এলাকায় তার চেয়েও বেশি অর্থ দিতে হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল আলম মজুমদারও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, মহাসড়কের তুলনায় ঘাট এলাকায় টোলের চাপ অনেক বেশি।

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, আগে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মাপাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও এখন সেই চিত্র নেই। পর্যটক কমে যাওয়ায় হোটেল, খাবারের দোকান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় আয় কমে গেছে।

বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ বলেন, টোল আদায় সরকারি ইজারার আওতায় হচ্ছে এবং এটি চাঁদাবাজি নয়। তবে কোন যানবাহন থেকে কত টোল নেওয়া হবে, সেটি ইজারাদারের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে ইজারাদার আলমগীর হোসেন দাবি করেন, বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ীই টোল ও পার্কিং ফি আদায় করা হচ্ছে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, কাছাকাছি দুটি টোল সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।