নিজের সময়কে অগ্রাধিকার দিতে এবং ছুটিকে সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে নতুন প্রজন্মের ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘উধাও ভ্রমণ’। এই ভ্রমণধারায় ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় প্রয়োজনীয় ভ্রমণসেবা গ্রহণের জন্য, কিন্তু অফিসের কাজ ও যোগাযোগ থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকা হয়। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা নিয়েও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ছুটি মানেই কাজের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি এবং নিজের মতো সময় কাটানো। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই ভ্রমণের মাঝেও অফিসের ই-মেইল, বার্তা বা জরুরি কাজের নোটিফিকেশন এসে সেই আনন্দ নষ্ট করে দেয়। এই বাস্তবতা থেকেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে নতুন ভ্রমণধারা ‘উধাও ভ্রমণ’।
নাম শুনে মনে হতে পারে, এটি সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যাওয়ার ধারণা। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। এখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় ভ্রমণের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য, তবে অফিসের যোগাযোগ ও কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা হয়।
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ছাড়া ভ্রমণ প্রায় অসম্ভব। বিমান বা ট্রেনের টিকিট বুকিং, হোটেল সংরক্ষণ, মানচিত্র ব্যবহার, স্থানীয় দর্শনীয় স্থান বা খাবারের তথ্য খোঁজা, এমনকি ডিজিটাল লেনদেনেও অনলাইন সংযোগ অপরিহার্য। তাই পুরোপুরি অফলাইনে যাওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করাই এই ভ্রমণধারার মূল বৈশিষ্ট্য।
সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একই ইন্টারনেট ছুটির মধ্যেও অফিসকে সঙ্গে নিয়ে আসে। ই-মেইল, ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের বার্তা কিংবা কাজের আপডেট ব্যক্তিগত সময়কে ব্যাহত করে। ‘উধাও ভ্রমণ’-এর ধারণা বলছে, প্রযুক্তি থাকবে ভ্রমণের সুবিধার জন্য, কিন্তু ছুটির সময় অফিসের জন্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা ও সবসময় সংযুক্ত থাকার সংস্কৃতি বাড়ায় অনেক কর্মজীবী মানুষ ছুটির সময়ও পুরোপুরি কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেন না। ফলে সচেতনভাবে ডিজিটাল সীমারেখা তৈরি করার প্রবণতা বাড়ছে।
এই ভ্রমণধারা পুরোপুরি অফলাইন নয়, আবার সারাক্ষণ অনলাইনেও নয়। বরং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকৃতি, নতুন সংস্কৃতি, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং নিজের জন্য সময় উপভোগ করার ওপরই জোর দেওয়া হয়। অনেকের কাছে এটাই এখন ভ্রমণের নতুন দর্শন।
‘উধাও ভ্রমণ’ কী?
ইন্টারনেট থাকবে, তবে অফিসের যোগাযোগ সীমিত থাকবে।
ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনেই প্রযুক্তির ব্যবহার।
ছুটির সময় কাজ থেকে মানসিক দূরত্ব তৈরি করা।
প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।