দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে বৈঠকের পর ২০২৬ সালের নতুন বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকা ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি।
এ তালিকায় মোট ২৫টি স্থান জায়গা করে নিয়েছে বলে ভ্রমণবিষয়ক সাময়িকী ওয়ান্ডার লাস্টের এক খবরে বলা হয়েছে। 
নতুন ২৫টি স্থানের মধ্যে ৬টি স্থান তাদের প্রাকৃতিক গুরুত্বের জন্য, ১৯টি স্থান সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের জন্য জায়গা করে নিয়েছে। 
এর বাইরে একটি স্থান আছে— মাউন্ট অলিম্পাসের বিস্তৃত অঞ্চল, সেটি তার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উভয় মূল্যের সমন্বয়ে 'মিশ্র স্থান' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 
এছাড়া পূর্বের দু'টি স্থান, বার্লিনের আধুনিকতাবাদী আবাসন ব্যবস্থা এবং কোরিয়ার 'গেটবল' জোয়ার-ভাটার কাদাচর এলাকা দুটির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
এই নতুন সংযোজনগুলো একদিকে যেমন প্রাচীন সভ্যতা, ধর্মীয় নিদর্শন, অসাধারণ স্থাপত্য এবং জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ এলাকাগুলোকে সম্মান জানায়, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশ্বের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইউনেস্কোর অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করে।
ডি-ডে ল্যান্ডিংয়ের সৈকতগুলোর স্বীকৃতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হতে যাচ্ছে। ইতিহাসের সর্ববৃহৎ উভচর সামরিক অবতরণ এবং ইউরোপে শান্তি ফিরিয়ে আনার ভূমিকার জন্য এই পাঁচটি সৈকত স্বীকৃতি পেয়েছে। একইভাবে গ্রিসের মাউন্ট অলিম্পাসের বিস্তৃত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হওয়াটাও বিশেষ নজর কেড়েছে, বিশেষ করে হোমারের ‘দি ওডিসি’ (The Odyssey) অবলম্বনে ক্রিস্টোফার নোলানের নির্মিত চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর।
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম কয়েকটি দেশও প্রথমবারের মতো এই তালিকায় স্থান পেয়ে তাদের সাফল্য উদযাপন করছে।

কমোরোস নামক ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ‘মেদিনা’ (পুরোনো শহর এলাকা) আফ্রিকান এবং ইসলামিক ঐতিহ্যের অনন্য মিশ্রণের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে।

অন্যদিকে সাও তোমে ও প্রিন্সিপির ঔপনিবেশিক ‘রোসাস’ (বাগান/খামারবাড়ি) তাদের স্থাপত্যশৈলীর মূল্য এবং অতীত চুক্তিবদ্ধ দাসত্বের অন্ধকার ইতিহাসের স্মারক হিসেবে স্থান পেয়েছে।

এছাড়া বিশ্বের নবীনতম রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদানের বিশাল জলাভূমি ও স্যাভানার মিশ্র অঞ্চল, যা বিশ্বের বৃহত্তম স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণীর অভিবাসনে সহায়তা করে। 
প্রকৃতপক্ষে, দক্ষিণ সুদানের এই 'বোমা-বাদিঙ্গিলো পরিযায়ী ল্যান্ডস্কেপ' তিনটি নতুন স্থানের একটি, যা অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সঙ্গে 'ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যর’ তালিকায় রাখা হয়েছে।

১. বোমা-বাদিঙ্গিলো পরিযায়ী ল্যান্ডস্কেপ — দক্ষিণ সুদান
২. আকাবা সামুদ্রিক রিজার্ভ — জর্ডান
৩. ওয়েস্টার্ন লিমফজর্ড-এর অস্থিময় মাছের জীবাশ্ম — ডেনমার্ক
৪. ওকিফেনোকি ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফ্যুজ — যুক্তরাষ্ট্র
৫. ওয়াদি ওয়ারায়াহ — সংযুক্ত আরব আমিরাত
৬. গারাম্বা জাতীয় উদ্যান — গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো
৭ সেবাস্টিয়া — ফিলিস্তিন
৮. ঐতিহাসিক সুলতানাতের মেদিনাসমূহ — কমোরোস
৯. আলমুত দুর্গ ও সংশ্লিষ্ট দুর্গসমূহ — ইরান
১০ সিদি বু সাইদ গ্রাম — টিউনিশিয়া
১১.ঝিওংনু আভিজাত্যের কবরস্থানসমূহ — মঙ্গোলিয়া
১২. জিংদেঝেন হস্তশিল্প পোর্সেলিন শিল্প কেন্দ্র — চীন
১৩. ওয়াট ফ্রা মহাতাত ওরামহাউইহান — থাইল্যান্ড
১৪. সারনাথের প্রাচীন বৌদ্ধ স্থান — ভারত
১৫. তাসখন্দ মডার্নিস্ট স্থাপত্য — উজবেকিস্তান
১৬. আসুক ও ফুজিয়াবারা প্রাচীন রাজধানীসমূহ — জাপান
১৭. আলতো ওয়ার্কস — ফিনল্যান্ড
১৮. মাঙ্গিস্তাউ-এর পাথুরে মসজিদ ও পবিত্র স্থান — কাজাকস্থান
১৯. কারকাসোন সেনেশালটির দুর্গ ব্যবস্থা — ফ্রান্স
২০. ডি-ডে ল্যান্ডিংস সৈকতসমূহ — ফ্রান্স
২১. ইতালীয় স্টাইলের কনডোমিনিয়াম থিয়েটার ব্যবস্থা — ইতালি
২২. আমাজনিয়া থিয়েটারসমূহ — ব্রাজিল
২৩. মাউন্ট আমাল দুর্গসমূহ — লেবানন
২৪. সাও তোমে ও প্রিন্সিপির ঔপনিবেশিক কৃষি ব্যবস্থা — সাও তোমে ও প্রিন্সিপি
২৫. গডিনিয়া মডার্নিস্ট সিটি সেন্টার — পোল্যান্ড