কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতি বছর লাখো দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমনের কারণে সৈকতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১২ বছরে সৈকত থেকে অন্তত ১ হাজার ৪৩ জন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত লাইফগার্ড দল। একই সঙ্গে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও বেশি লাইফগার্ড নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান সিআইপিআরবির সিসেফ প্রকল্পের অর্থ ও প্রশাসন কর্মকর্তা হাফেজ আহমেদ।

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশনের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত সিসেফ প্রকল্পের আওতায় গত ১২ বছরে সমুদ্র থেকে ১ হাজার ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৯ হাজার শিশুকে বিনামূল্যে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আনুমানিক ৫০ লাখের বেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীর কাছে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

হাফেজ আহমেদ বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নিয়োগ করা গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে লাইফগার্ডদের বাস্তব উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা বা সিপিআর প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা এবং সৈকতে আগত পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা চালানো হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতের জন্য সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সতর্কীকরণ পতাকা অনুসরণ, নির্ধারিত এলাকায় গোসল করা এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চললে অধিকাংশ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জীবিত উদ্ধার: ১,০৪৩ জন

সময়কাল: গত ১২ বছর

সাঁতার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশু: প্রায় ৯,০০০

সচেতনতামূলক বার্তা পেয়েছেন: ৫০ লাখের বেশি পর্যটক ও দর্শনার্থী

উপলক্ষ: বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস