কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি নতুন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠছে। ‘সি আইল্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামে এ প্রকল্পটি একদিকে যেমন পর্যটকদের জন্য আধুনিক আবাসন ও অবকাশ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্যও অংশীদার হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকা ইনানীতে প্রায় ৩০০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে পর্যটন, আতিথেয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রিসোর্টটির অবস্থান ইনানী সমুদ্রসৈকত, মেরিন ড্রাইভ, লাল কাঁকড়া সৈকত এবং পাহাড়-সমুদ্রঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি। এ কারণে এটি ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িমুখী ভ্রমণকারীদের জন্যও এটি একটি সম্ভাব্য ট্রানজিট ও অবকাশকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে সমুদ্রমুখী ১৫ তলা ভবন, আধুনিক ডুপ্লেক্স ও ট্রিপ্লেক্স কটেজ, সুইমিং পুল, নারী পর্যটকদের জন্য পৃথক সুবিধা, শিশুদের বিনোদন এলাকা, বারবিকিউ জোন, জিমনেশিয়াম, স্পা, মেডিটেশন সেন্টার, কনভেনশন হল, ভিআইপি লাউঞ্জ এবং নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা। এছাড়া হেলিপ্যাড, ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সৈকত এবং প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, মাছ ধরার নৌকা ও এটিভি রাইডিংয়ের মতো বিনোদন সুবিধাও পরিকল্পনায় রয়েছে।

পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারে উন্নতমানের রিসোর্টের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিমানবন্দর উন্নয়ন, রেল যোগাযোগের সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে কক্সবাজারকে সম্ভাবনাময় মনে করছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

সি আইল্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে শেয়ার মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদে অংশগ্রহণ, লভ্যাংশ গ্রহণ, নির্দিষ্ট সময় পর শেয়ার হস্তান্তরের সুযোগ এবং প্রতিবছর অতিথি হিসেবে রিসোর্টে অবস্থানের সুবিধার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আজীবন সদস্যপদ, পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক চেইন হোটেলের সঙ্গে পরিচালনার সম্ভাবনার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে উন্নত সেবার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান, পরিবহন, খাদ্য, হস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এ ধরনের প্রকল্প দেশের পর্যটন অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

প্রকল্পের অবস্থান: ইনানী, মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার

যোগাযোগ:
০১৭১৬-৯০২৫৭২
০১৭৫৫-০২৪২১১