বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটন গন্তব্য বান্দরবানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গণবিজ্ঞপ্তিকে ভুয়া বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, রুমা ও থানচি উপজেলার কোনো পর্যটনকেন্দ্রে বর্তমানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই এবং পর্যটকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা প্রশাসনের নামে একটি গণবিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, সীমান্ত এলাকায় একটি সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতার কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় রুমা উপজেলার বগালেক, কেওক্রাডং, সংসংপাড়া এবং থানচি উপজেলার সব পর্যটন গন্তব্য ২২ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। এতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন নামের এক সহকারী কমিশনারের স্বাক্ষরও সংযুক্ত করা হয়।
তবে বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়ে পড়ার পর পর্যটক, ভ্রমণপ্রেমী এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অনেকেই এর সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনে ‘স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা শাখা’ নামে কোনো শাখা নেই। একই সঙ্গে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন নামে কোনো কর্মকর্তাও জেলা প্রশাসনে কর্মরত নন।
জেলা প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। তিনি জনসাধারণ ও পর্যটকদের এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বান্দরবান দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন অঞ্চল। বগালেক, কেওক্রাডং, নীলগিরি, থানচি ও সাংগু নদীকেন্দ্রিক পর্যটন কার্যক্রম প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুকে আকর্ষণ করে। ফলে পর্যটনসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচারিত হলে ভ্রমণ পরিকল্পনা ও স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।