পেরুর আমাজন রেইনফরেস্টে নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন আদিবাসী নারীরা। সান মার্টিন অঞ্চলের কয়েকটি আদিবাসী নারীগোষ্ঠী শুধু বন সংরক্ষণই করছেন না, পর্যটকদের সামনে তুলে ধরছেন তাদের বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য ও জীবনধারা।
এরই একটি উদাহরণ নুওয়াস ফরেস্ট। এখানকার আওয়াজুন সম্প্রদায়ের প্রবীণ নারী মার্গারিটা কুম্বিয়া সাওয়াও এই বনভূমির অন্যতম রক্ষক। একসময় অবৈধ বসতি স্থাপন ও কৃষিকাজের কারণে হুমকির মুখে পড়েছিল এই এলাকা। এখন আওয়াজুন নারীরা সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন উদ্ভিদ চাষ করছেন, যার অনেকগুলোই ঔষধি গুণসম্পন্ন।
মার্গারিটা জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি এখানে আসেন। তখন চারদিকে ছিল শুধু বন। কয়েকজন নারী মিলে দূরের একটি জায়গায় ঔষধি গাছ লাগানোর অনুমতি চেয়েছিলেন। তাদের সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৬টি পরিবার বসবাস করে এবং নারীরাই নেতৃত্ব দিয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের জ্ঞান ও ঐতিহ্য ধরে রাখছেন।
বনে পাওয়া উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে ভ্যানিলা অর্কিড, যা বছরে মাত্র একদিন ফুল ফোটায় এবং হাতে পরাগায়ন করতে হয়। আওয়াজুনদের কাছে এই উদ্ভিদটির বিশেষ সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। তারা স্থানীয় গাছপালা ও ফলমূলকে চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে ব্যবহার করেন।
পর্যটকদের বনভ্রমণের সময় নারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পবিত্র একটি পথে হাঁটতে হাঁটতে তারা পর্যটকদের বিশাল সাইক গাছের কাছে নিয়ে যান, যাকে আওয়াজুনরা ‘জীবনের গাছ’ বলে মনে করেন। বনভ্রমণের শেষে পর্যটকদের সামনে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গান।
সান মার্টিনের আরেক শহর চাজুতায় নারীদের আরেকটি দল ইয়ানা রুমি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প সংরক্ষণ করছে। ২০১৯ সালে গড়ে ওঠা এই নারী সমবায় প্রাচীন মৃৎশিল্প, ঝুড়ি তৈরি, সুতা কাটা ও তাঁতশিল্পের কৌশল ধরে রেখেছে।
তাদের তৈরি মৃৎপাত্রে নদী, গাছপালা, প্রাণী ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যায়। স্থানীয় নদীর তীর থেকে সংগ্রহ করা মাটি দিয়ে তৈরি এসব পাত্র প্রাকৃতিক রং দিয়ে সাজানো হয়। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে মৃৎপাত্র পোড়াতে সময় লাগে প্রায় ১৩ ঘণ্টা।
আমাজনের এই নারীদের কাজ তাই শুধু পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করছে না, একই সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সংস্কৃতি, জ্ঞান ও কারুশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখছে।