কানাডার পাহাড়প্রেমীদের জন্য যুক্ত হলো এক নতুন ঠিকানা। বানফ ও জ্যাসপার ন্যাশনাল পার্কের ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে চাইলে এখন ভ্রমণকারীরা পা রাখতে পারবেন একেবারে ভিন্ন এক পথে। কানাডিয়ান রকিজের কম পরিচিত অঞ্চলে খুলে দেওয়া হয়েছে ১০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রকি টু নর্ডেগ রেল ট্রেইল, যা ইতিহাস আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিরল সংযোগ তৈরি করেছে।
আলবার্টা প্রদেশের নর্ডেগ থেকে রকি মাউন্টেন হাউস পর্যন্ত বিস্তৃত এই ট্রেইলটি তৈরি হয়েছে শতবর্ষ পুরোনো কানাডিয়ান নর্দার্ন রেলওয়ের পরিত্যক্ত রেললাইন ধরে। এক সময় যে রেলপথ কয়লা পরিবহন আর প্রত্যন্ত বসতি টিকিয়ে রাখার প্রধান মাধ্যম ছিল, আজ তা রূপ নিয়েছে আধুনিক ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চারের নতুন করিডোরে।
পাইন ও স্প্রুস বনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই পথ ভ্রমণকারীদের নিয়ে যাবে জলাভূমি, উপত্যকা আর পাহাড়ঘেরা নির্জন এলাকায়। এখানে হাঁটা, সাইকেল চালানো, ঘোড়ায় চড়া, ক্রস কান্ট্রি স্কিইং থেকে শুরু করে অফ-হাইওয়ে যান চলাচলের সুযোগ রয়েছে। ট্রেইলটির প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে, বাকি অংশের কাজ চলছে।
এই রেল ট্রেইল কেবল প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগই দেয় না, বরং তুলে ধরে কানাডার শিল্প ও বসতি গঠনের ইতিহাস। ইতিহাসবিদ লেস কোজমার মতে, এই রেললাইন ছাড়া পশ্চিম কানাডার অনেক শহরের অস্তিত্বই থাকত না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কয়লার চাহিদা কমে গেলে ১৯৮৫ সালে রেল চলাচল বন্ধ হয় এবং পরের বছর লাইনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ২০০৯ সালে এই রেলপথ সংরক্ষণ ও পর্যটনের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালে আলবার্টা সরকার প্রায় ৮৫ লাখ ডলার বরাদ্দ দেয় ট্রেইল, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়নে।
ট্রেইলটির অন্যতম আকর্ষণ টাউনটন ট্রেসল ব্রিজ। ২২০ মিটার দীর্ঘ এই ঐতিহাসিক লোহার সেতুটি সম্প্রতি সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখান থেকে উপত্যকার দৃশ্য বিশেষ করে শরৎকালে অসাধারণ হয়ে ওঠে।
ভ্রমণকারীরা চাইলে ট্রেইল থেকে নর্থ সাসকাচেওয়ান নদীতে নৌকা ভ্রমণ, মাছ ধরা বা নির্জন ক্যাম্পগ্রাউন্ডে রাত কাটানোর সুযোগ পাবেন। এল্ক, হরিণ, শেয়াল এমনকি পাহাড়ি ছাগল দেখার সম্ভাবনাও রয়েছে।