শহরের কোলাহল, যানজট আর নিরবচ্ছিন্ন শব্দের ভিড়ে একটু নীরবতা খুঁজে পাওয়া যেন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তবে কক্সবাজার শহর ছেড়ে দূরে না গিয়েও মিলতে পারে এমন এক প্রশান্ত আশ্রয়, যেখানে সমুদ্রের ঢেউই একমাত্র সঙ্গী। ‘কবিতা চত্বর’ নামে পরিচিত এই নির্জন সৈকত এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে নীরবতা খোঁজাদের নতুন ঠিকানা।

কক্সবাজার শহরের খুব কাছেই সমিতিপাড়া সড়ক হয়ে বালিকা মাদ্রাসা রোড অতিক্রম করলে পাওয়া যায় এই শান্ত সৈকত ‘কবিতা চত্বর’। নামের মতোই জায়গাটি জুড়ে রয়েছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা ও প্রশান্তি, যা শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

অন্য জনপ্রিয় সৈকতের মতো এখানে নেই ভিড়, উচ্চস্বরে বাজানো গান বা দোকানপাটের কোলাহল। বরং পুরো পরিবেশে বিরাজ করে এক ধরনের স্থিরতা, যা ভেঙে দেয় কেবল সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দময় শব্দ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জায়গাটি বেশ পরিচিত হলেও অনেকেই এখনো জানেন না শহরের এত কাছেই এমন একটি নিরিবিলি স্থান রয়েছে। নিয়মিত দর্শনার্থী সাফায়াত হক বলেন, বিকেলে এখানে কিছু সময় কাটালে মন অনেকটা হালকা হয়ে যায়। যেন ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে দিনের ক্লান্তিও ধুয়ে যায়।

আরেক দর্শনার্থী সুফাইয়া জানান, এতটা নিরবতায় সমুদ্র উপভোগ করা যাবে, তা তিনি আগে ভাবেননি। তার কাছে অভিজ্ঞতাটি ছিল ভীষণ সতেজ ও ভিন্নধর্মী।

‘কবিতা চত্বর’-এর বিশেষত্ব এর সরলতায়। এখানে নেই কোনো বিলাসবহুল স্থাপনা বা অতিরিক্ত সাজসজ্জা। খোলা আকাশ, মৃদু বাতাস আর বিশাল সমুদ্র মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাকৃতিক পরিবেশ, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

ধীরে ধীরে তরুণদের মাঝেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই জায়গা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন, আবার কেউ একা বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করেন। দর্শনার্থী রিয়া বলেন, ভিড় এড়িয়ে এমন একটি নিরিবিলি জায়গায় সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা সত্যিই আলাদা।

পর্যটনের প্রচলিত গন্তব্যের বাইরে যারা কিছু খুঁজছেন, তাদের জন্য ‘কবিতা চত্বর’ হতে পারে এক সতেজ বিকল্প। শহরের কাছেই সহজে যাওয়া যায়, আবার স্বল্প সময়েই ফিরে আসা সম্ভব।