বর্ষা এলেই বদলে যায় রাঙামাটির বরকল উপজেলার সুবলং ঝর্ণার চেহারা। পাহাড়ের বুক চিরে প্রায় ৩০০ ফুট ওপর থেকে নেমে আসা জলধারা আর চারপাশের সবুজ পাহাড় মিলিয়ে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শ্রাবণের টানা বৃষ্টিতে নবরূপে সেজে ওঠা এই ঝর্ণা এখন দেশ-বিদেশের প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

সুবলং ঝর্ণার অবস্থান রাঙামাটি সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বরকল উপজেলার শিলারধাক এলাকায়। সেখানে সড়কপথে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ নেই। রাঙামাটি শহর থেকে কাপ্তাই হ্রদ পেরিয়ে নৌযানে যেতে হয়। এই জলযাত্রার পথটিও পর্যটকদের কাছে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

বর্ষা মৌসুমেই সুবলংয়ের মূল ঝর্ণা সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা পানির প্রবল ধারা নিচে আছড়ে পড়ে তৈরি করে মনোরম দৃশ্য। পর্যটকদের সুবিধার জন্য এলাকায় কিছু স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও দ্রুতগতির নৌযানে পর্যটকদের যাওয়া-আসা চলছে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন। অনেকে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। আবার কেউ ঝর্ণার পাশে বসে পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মিলি জাহান বলেন, “সুবলং ঝরনায় এবারই প্রথম এসেছি। আগে টিভি, ফেসবুকে দেখে যতটা মুগ্ধ হয়েছিলাম, বাস্তবে এসে দেখলাম এর সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেশি।”

রাঙামাটি শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা মৌসুমী বণিক বলেন, ঝর্ণার অঝোর ধারা দেখে তার মন জুড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য আগে কেন দেখা হয়নি, সেটিই ভাবছেন তিনি।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আব্দুল সায়েমের ভাষায়, সুবলংয়ের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। বন্ধুদের জীবনে অন্তত একবার এখানে আসার পরামর্শ দেবেন তিনি।

সুবলং ভ্রমণে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের আবর্জনা না ফেলা, গাছপালা নষ্ট না করা এবং ঝর্ণার পানিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে না নামার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রাঙামাটির পর্যটন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ফিসারিঘাট এলাকা থেকে নৌকা বা দ্রুতগতির নৌযানে সুবলং যাওয়া যায়। বরকল উপজেলায় সুবলং ছাড়াও ছোট-বড় আরও কয়েকটি ঝর্ণা রয়েছে। ফলে বর্ষাকালে রাঙামাটি ভ্রমণে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য পুরো এলাকাটিই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

সুবলং ঝর্ণা

অবস্থান: বরকল উপজেলা, রাঙামাটি

রাঙামাটি সদর থেকে দূরত্ব: প্রায় ২৫ কিলোমিটার

যাতায়াত: কাপ্তাই হ্রদ হয়ে নৌপথে

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়: বর্ষাকাল

বিশেষ আকর্ষণ: প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসা জলধারা