দেশে প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেকিংও হয়ে উঠছে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম পছন্দ। পাহাড়, ঝরনা, ঘন বন, ঝিরিপথ এবং বৈচিত্র্যময় আদিবাসী সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা একসঙ্গে উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে যান হাজারো অভিযাত্রী। সঠিক মৌসুম, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং অভিজ্ঞ গাইডের সহায়তায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি স্থান হতে পারে স্মরণীয় ট্রেকিং গন্তব্য।
বাংলাদেশে ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় অঞ্চল হলো বান্দরবান। কেওক্রাডং, তাজিংডং, নাফাখুম, আমিয়াখুম, ভেলাখুম, দেবতাখুম এবং রেমাক্রি ট্রেইল দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং ট্রেকিং রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ি পথ, ঝিরিপথ, ঝরনা এবং স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতির সমন্বয়ে এসব ভ্রমণ হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময় ও রোমাঞ্চকর।
এ ছাড়া সাজেক, বগালেক এবং থানচি এলাকাও ট্রেকারদের কাছে সমান জনপ্রিয়। বর্ষা শেষে থেকে শীতকাল পর্যন্ত সময়কে এসব অঞ্চলে ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মৌসুম ধরা হয়। এ সময় প্রকৃতি থাকে সবুজে সজীব এবং আবহাওয়াও থাকে তুলনামূলক অনুকূলে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও রয়েছে কয়েকটি আকর্ষণীয় ট্রেকিং গন্তব্য। সিলেটের পাহাড়ি পথ, চা-বাগানঘেরা ট্রেইল এবং হামহাম জলপ্রপাতের পথে ট্রেকিং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। একইভাবে খাগড়াছড়ির আলুটিলা, রিসাং ঝরনা এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকাও ভিন্নধর্মী ট্রেকিং অভিজ্ঞতা দেয়।
অভিজ্ঞ ট্রেকারদের মতে, সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য এবং চ্যালেঞ্জের দিক থেকে বান্দরবান এখনো দেশের সেরা ট্রেকিং গন্তব্য। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু এখানকার দুর্গম পাহাড়ি পথে অভিযানে অংশ নেন।
ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা, নিবন্ধিত বা অভিজ্ঞ গাইড সঙ্গে রাখা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম বহন করা জরুরি। পাশাপাশি পাহাড়ি পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রতি সম্মান দেখানো দায়িত্বশীল পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
• সেরা মৌসুম: বর্ষা-পরবর্তী সময় থেকে শীতকাল
• জনপ্রিয় ট্রেকিং অঞ্চল: বান্দরবান, সিলেট, খাগড়াছড়ি
• অবশ্যই সঙ্গে রাখুন: অভিজ্ঞ গাইড, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, পর্যাপ্ত পানি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম
• দায়িত্বশীল ভ্রমণ নিশ্চিত করুন: পরিবেশ সংরক্ষণ করুন এবং স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলুন।