রাজশাহীর পদ্মার চরে অবস্থিত শিমলা পার্ককে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পাখি, বন্যপ্রাণী ও সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত এই এলাকাটি সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন, গবেষণা ও পরিবেশ শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সভায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বারবিলা বিল এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাবুডাইং পর্যটন ও পিকনিক স্পটকেও বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বার্ড ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, বছরের অধিকাংশ সময় শিমলা পার্ক এলাকায় ২০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখির বিচরণ ঘটে। বর্ষা ও শীত মৌসুমে দেশীয় ও পরিযায়ী নানা প্রজাতির পাখি এখানে দেখা যায়। পাশাপাশি রয়েছে ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৪ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী। এ কারণে এলাকাটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত।
সংরক্ষিত এলাকার আওতায় বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন অংশ থেকে জেলা প্রশাসকের বাংলো-সংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১৭ একর এলাকা অন্তর্ভুক্ত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়নের মধ্যে এমন প্রাকৃতিক এলাকা সংরক্ষণ জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, গবেষক, পাখিপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
তবে সংরক্ষিত এলাকার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। নীরবতা বজায় রাখা, বন্যপ্রাণীর চলাচলে বাধা না দেওয়া, পাখির বাসা বা আবাসস্থল নষ্ট না করা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে আরোপিত প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মাইক বা উচ্চস্বরে গান বাজানো, পিকনিক, আগুন জ্বালানো, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা, গাছ কাটা, বন্যপ্রাণী বিরক্ত বা শিকার করা, অবৈধ দোকান স্থাপন এবং ঝোপঝাড় বা ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
গত ৮ জুলাই বিভাগীয় কমিশনার ড. এ. এন. এম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা সংরক্ষণ ও উন্নয়নবিষয়ক এক সভায় রাজশাহীর জনগণকে এ সংরক্ষিত এলাকা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে শিমলা পার্ক।
- সংরক্ষিত হবে প্রায় ১৭ একর এলাকা।
- রয়েছে ২০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি।
- আছে ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী।
- লক্ষ্য হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ শিক্ষা, গবেষণা ও টেকসই প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনের উন্নয়ন।