ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম (ইইএস) চালু হওয়ার পর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের অভিযোগ বেড়েছে। 
ভ্রমণ খাতের কর্তাব্যক্তিদের আশঙ্কা, গ্রীষ্মের ব্যস্ত মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
গত এপ্রিলে চালু হওয়া এ ব্যবস্থার আওতায় শেনজেন অঞ্চলে প্রথমবার প্রবেশের সময় যাত্রীদের আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি (বায়োমেট্রিক তথ্য) দিতে হচ্ছে।
ছয় শতাধিত বিমানবন্দরের প্রতিনিধিত্বকারী এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (এসিআই) জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা চালুর পর কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। 
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি এই দীর্ঘ অপেক্ষা বিশেষভাবে সমস্যায় ফেলতে পারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, চলাফেরায় অক্ষম যাত্রী, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা বয়স্কদের।

প্রতিবন্ধী বা চলাচলে অক্ষম হলে কী সুবিধা
ইউরোপের ব্যস্ততম কয়েকটি বিমানবন্দর—প্যারিস, আমস্টারডাম, মাদ্রিদ, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও বার্সেলোনার কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসের স্কিফোল এবং স্পেনের আয়েনা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে।
স্কিফোল বিমানবন্দরে যাত্রীরা টিকিট বুকিংয়ের সময় বিশেষ সহায়তা চাইতে পারেন। বিমানবন্দরের সহায়তাকর্মীরা সীমিত চলাচলক্ষম যাত্রীদের আলাদা সুবিধার মাধ্যমে ইইএস প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সহায়তা করবেন।
এ জন্য বিমানবন্দরের সহায়তা লাউঞ্জে বিশেষ ইইএস কিয়স্ক, সীমিত চলাচলক্ষম যাত্রীদের জন্য আলাদা লেন ও পৃথক ডেস্ক চালু করা হয়েছে।
এছাড়া বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক পরিবহন গাড়িতে (ট্রান্সফার ক্যাডি) যাতায়াতকারী যাত্রীদের নামতে না হয়েই আলাদা পথে বায়োমেট্রিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা বিমানবন্দরে পরিবার এবং চলাচলে অক্ষম যাত্রীদের জন্য পৃথক লাইন রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তারা স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কের পরিবর্তে সরাসরি কর্মকর্তার মাধ্যমে পাসপোর্ট যাচাই করাতে পারেন।
বিশ্বের ৭০টি দেশের ৩৪০টি বিমানবন্দর এবং ৩১টি এয়ারলাইন হিডেন ডিজঅ্যাবিলিটিজ সানফ্লাওয়ার কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত কর্মীরা অদৃশ্য প্রতিবন্ধিতা—যেমন অটিজম, উদ্বেগজনিত সমস্যা বা অন্যান্য বিশেষ অবস্থার যাত্রীদের অতিরিক্ত সহায়তা দেন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বিশেষ সহায়তার লেন ব্যবহারের সুযোগ পান।
যাত্রীরা চাইলে সানফ্লাওয়ার ল্যানইয়ার্ড বা পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জানাতে পারেন।

হাতের আঙুলের ছাপ দিতে না পারলে
ইইএস বিধিমালা অনুযায়ী, শারীরিক কারণে যদি কোনো যাত্রীর আঙুলের ছাপ দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি সাময়িকভাবে এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন।
যদি আঘাত সাময়িক হয়, তবে তা সিস্টেমে নথিভুক্ত থাকবে এবং পরবর্তীবার শেনজেন এলাকায় প্রবেশের সময় আঙুলের ছাপ দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যাখ্যাও চাইতে পারে।

বিমানবন্দরগুলোতে কী নির্দেশনা
ইইউর ফান্ডামেন্টাল রাইটস এজেন্সি (এফআরএ) সদস্য দেশগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, যেন নতুন ব্যবস্থা বৈষম্যহীনভাবে পরিচালিত হয়।

তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—
বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও শিশুদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।
হুইলচেয়ার চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা।
উচ্চতা সমন্বয়যোগ্য ও ভয়েস-সহায়তাসম্পন্ন কিয়স্ক ব্যবহার।
প্রয়োজনে ট্যাবলেট বা মোবাইল ডিভাইস দিয়ে যাত্রীর কাছেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ।
ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে অদক্ষ ব্যক্তিদের সহায়তা করা।
ধর্মীয় পোশাক, প্রতিবন্ধিতা বা অন্য কোনো কারণে কেউ অস্বস্তি বোধ করলে ব্যক্তিগতভাবে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সীমান্ত কর্মকর্তাদের সব সময় যাত্রীদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিতে হবে।