টানা বৃষ্টি, কম দৃশ্যমানতা ও প্রতিকূল বাতাসে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সিলেট ও কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। বিলম্বিত হয়েছে অর্ধশতাধিক আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইট, দুর্ভোগে পড়েছেন দেশি-বিদেশি যাত্রীরা।

রোববার, ১২ জুলাই দুপুরে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দুবাই থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণ করতে না পেরে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে।

অন্যদিকে, চীনের গুয়াংজু থেকে আসা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, মদিনা, জেদ্দা ও কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্য থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটসহ অর্ধশতাধিক উড়োজাহাজ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে অবতরণ করে।

সৈয়দপুর ও চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে। কয়েকটি উড়োজাহাজ আকাশে অপেক্ষার পর শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাতভর ভারী বৃষ্টির পর রোববার সকালে দৃশ্যমানতা কমে যায়। বাতাসের প্রভাবও ছিল। ফলে নিরাপদ অবতরণ ও উড্ডয়নে জটিলতা তৈরি হয়।

উড়োজাহাজ চলাচলে যাত্রী ও ক্রুর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রয়োজন হলে ফ্লাইট কাছাকাছি বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয় অথবা সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। শাহজালালেও নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।

বিদেশ থেকে আসা ফ্লাইটগুলোর বিলম্বের প্রভাব পড়ে বিমানবন্দরের সার্বিক ফ্লাইট পরিচালনায়। সকাল থেকে বিভিন্ন উড়োজাহাজ দেরিতে অবতরণ করায় ঢাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

এ অবস্থায় শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি জেনে নেওয়া জরুরি।