বিশ্বকাপ মানেই স্টেডিয়াম, গোল আর উন্মাদনা। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বহু বিদেশি সমর্থকের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠেছে মাঠের বাইরের আমেরিকা। আকাশচুম্বী ভবন কিংবা বড় শহরের বাইরে সড়কপথে ভ্রমণ, জাতীয় উদ্যান, ছোট শহরের আতিথেয়তা এবং স্থানীয় খাবারের বৈচিত্র্য তাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন এক দিকও তুলে ধরছে।
বিশ্বকাপের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলজুড়ে বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক দর্শক শুধু বিমান ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। অনেকে গাড়ি চালিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে গিয়েছেন। সেই যাত্রাপথেই তারা পরিচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণের সঙ্গে।
রুট ৬৬-এর ঐতিহাসিক সড়ক, জায়ন জাতীয় উদ্যান, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এবং লুইজিয়ানার জলাভূমির মতো প্রাকৃতিক গন্তব্য বিদেশি সমর্থকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব স্থানের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেছেন।
শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, স্থানীয় খাবারও ভ্রমণকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ, আঞ্চলিক বারবিকিউ, আলুভিত্তিক বিভিন্ন খাবার এবং সড়কপথের বড় বিশ্রামকেন্দ্রগুলোর খাবারের বৈচিত্র্য অনেকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কানসাস সিটির বারবিকিউ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব রান্নার ধরন বিদেশি দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
অনেক পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আকারের বিপণিবিতান, বহুমুখী বিশ্রামকেন্দ্র এবং স্থানীয় জীবনধারা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনে দেখা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অনেক অজানা দিক।
বিশ্বকাপকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতাও প্রশংসিত হচ্ছে। বিভিন্ন শহরে স্বেচ্ছাসেবক ও পরিবহনকর্মীরা দর্শকদের সহযোগিতা করছেন। কোথাও বিনামূল্যে পানীয় বিতরণ করা হয়েছে, আবার কোথাও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদেশি সমর্থকদের নিজ শহরের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।
কানসাস অঙ্গরাজ্যের লরেন্স শহর এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আলজেরিয়া জাতীয় ফুটবল দল সেখানে অনুশীলন শিবির গড়ে তোলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের স্বাগত জানাতে নানা আয়োজন করেন। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আলজেরিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন, শিল্পীরা তৈরি করেন বিশাল আলজেরিয়ার পতাকা এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরবি ভাষায় অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন শুধু অর্থনৈতিক সুফলই আনে না, বরং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়াও বাড়ায়। স্টেডিয়ামের বাইরের অভিজ্ঞতাই অনেক সময় একটি দেশের পর্যটন ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- বিশ্বকাপের ভ্রমণপথে জনপ্রিয় হয়েছে জাতীয় উদ্যান ও ঐতিহাসিক সড়ক।
- স্থানীয় খাবার ও আঞ্চলিক সংস্কৃতি বিদেশি দর্শকদের আকর্ষণ করছে।
- ছোট শহরের আতিথেয়তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরছে।