যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলো মাঠে নামতেই তাদের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বেড়ে গেছে।
ট্যুর অপারেটর ও ফ্লাইটের তথ্য জানানো ওয়েবসাইটগুলো বলছে, এসব দেশের বিষয়ে মানুষের অনুসন্ধান ও ভ্রমণ পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষ করে গত সপ্তাহে কেপ ভার্দে স্পেনকে ০-০ গোলে রুখে দেওয়ার পর দেশটি নিয়ে বিশেষায়িত ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১৫ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এদিকে, ফ্লাইট তুলনামূলক প্ল্যাটফর্ম স্কাইস্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে আলোচনায় আসা অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত দেশগুলোতে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও কয়েক মাস ধরে পর্যটকের বুকিং বাড়তে থাকে।
কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপ প্রায় ৫০০ কোটির বেশি মানুষ দেখেছিলেন। ফলে বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের আসর নয়, পর্যটন শিল্পের জন্যও বিশাল ব্যবসার সুযোগ। চলুন দেখে নেওয়া যাক, এমন কয়েকটি গন্তব্য—
কেপ ভার্দে
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জে রয়েছে মনোরম সমুদ্রসৈকত, বালিয়াড়ি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের অল-ইনক্লুসিভ রিসোর্ট।
দেশটিতে ভ্রমণের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান দ্য কেপ এক্সপেরিয়েন্স জানিয়েছে, স্পেনের বিপক্ষে ড্র করার দিন তাদের ওয়েবসাইটে দৈনিক ভিজিটর সংখ্যা ২০ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৯২ হাজারে পৌঁছায়।

কুরাসাও
জার্মানির বিপক্ষে ১-১ সমতায় ফেরার পর কুরাসাও নিয়ে গুগলে অনুসন্ধান হঠাৎ বেড়ে যায়। এমনকি স্যান্ডালস রয়্যাল কুরাসাও হোটেলের প্রতি আগ্রহ ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অংশ এই দক্ষিণ ক্যারিবীয় দ্বীপটি শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশের জন্য পরিচিত। যদিও নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে যায় কুরাসাও।

সেনেগাল
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের কাছে ৩-১ গোলে হারলেও আফ্রিকার দেশ সেনেগালকে নিয়ে টুই-এর ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান ১৮ শতাংশ বেড়েছে।
এখানে রয়েছে বন্যপ্রাণীতে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা, আকর্ষণীয় সমুদ্রসৈকত এবং প্রাণবন্ত রাজধানী ডাকারের মতো দর্শনীয় স্থান।

উজবেকিস্তান
মধ্য এশিয়ার এই দেশটি হয়তো ফুটবলে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী নয়, তবে ফ্লাইটফাইন্ডার ডটকম মনে করছে বিশ্বকাপের সুবাদে দেশটি নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
রাজধানী তাশখন্দ ছাড়াও ঐতিহাসিক শহর বুখারা তার অপূর্ব স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

জর্ডান
অস্ট্রিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারলেও জর্ডানের জন্য সুখবর হলো, দেশটি সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের পূর্বের ‘নো-গো’ সতর্কতা তুলে নিয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রচারের প্রভাবও দেশটির পর্যটনে নতুন গতি আনতে পারে। পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ওয়াদি রাম মরুভূমি এবং প্রাচীন নগরী পেত্রা।

প্যারাগুয়ে
উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে গেলেও ডায়ালএফ্লাইট বলছে, বিশ্বকাপ প্যারাগুয়েকে আরও বেশি মানুষের নজরে নিয়ে আসবে।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে রয়েছে বিশাল জলপ্রপাত, ঔপনিবেশিক যুগের স্থাপত্য এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অংশ এই দেশটিকেও বিশ্বকাপ নতুনভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটনের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এখানে ভ্রমণকারীরা উপভোগ করতে পারবেন মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য, ঐতিহাসিক দুর্গ এবং আকর্ষণীয় শহর সারায়েভো ও মোস্তার।