প্রচণ্ড গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে জুন ও জুলাই মাসে ভারতের বিভিন্ন পাহাড়ি ও প্রাকৃতিক গন্তব্যে ভিড় বাড়ে পর্যটকদের। কোথাও বর্ষায় সবুজে মোড়া পাহাড়, কোথাও তুষারগলা উপত্যকা, আবার কোথাও মনোরম চা ও কফি বাগান ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর সংস্কৃতির বৈচিত্র্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে বছরের এই সময়টি ভারত ভ্রমণের জন্য অন্যতম উপযুক্ত মৌসুম।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা ও গ্রীষ্মের আবহাওয়া ভিন্ন হওয়ায় ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং যাতায়াত পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

জুন ও জুলাই মাসে ভ্রমণের জন্য ভারতের ১০টি জনপ্রিয় গন্তব্য তুলে ধরা হলো:

১. লাদাখ

দীর্ঘ শীতের পর জুনে শুরু হয় লাদাখের পর্যটন মৌসুম। বরফ গলে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় প্যাংগং হ্রদ, নুব্রা উপত্যকা ও প্রাচীন বৌদ্ধ মঠগুলো ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ১০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকায় ট্রেকিং ও মোটরবাইক ভ্রমণের জন্য এটি আদর্শ সময়।

২. স্পিতি ভ্যালি

হিমাচল প্রদেশের স্পিতি ভ্যালি জুনে রৌদ্রোজ্জ্বল ও শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। দিনের তাপমাত্রা ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও রাতে বেশ ঠান্ডা পড়ে। বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম ডাকঘর হিক্কিম, কি মনাস্টেরি এবং চন্দ্রতাল হ্রদ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।

৩. আউলি

শীতকালে স্কি গন্তব্য হিসেবে পরিচিত আউলি গ্রীষ্মে সবুজ পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। কুয়ারি পাস ট্রেক, গোরসন বুগিয়াল এবং নন্দা দেবী পর্বতের মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ সময় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ১৬ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

৪. দার্জিলিং

বর্ষার শুরুতে দার্জিলিংয়ে মেঘ, কুয়াশা ও হালকা বৃষ্টির অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয়। ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে ভ্রমণ, পাহাড়ি ক্যাফে এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া এখানকার জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা। তাপমাত্রা সাধারণত ১৫ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।

৫. শিলং

বর্ষাপ্রেমীদের জন্য শিলং অন্যতম সেরা গন্তব্য। বৃষ্টিতে ধোয়া পাহাড়, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতি নতুন রূপ পায়। পাশাপাশি চেরাপুঞ্জি, ডাউকি, জীবন্ত রুট ব্রিজ এবং মাওসমাই গুহাও সহজেই ঘুরে দেখা যায়।

৬. উটি

শীতল আবহাওয়ার কারণে গ্রীষ্মকালেও উটি ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয়। নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের ঐতিহাসিক টয় ট্রেন এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। জুনে তাপমাত্রা সাধারণত ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।

৭. কুর্গ

কফি বাগান, পাহাড়ি সৌন্দর্য ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য পরিচিত কর্ণাটকের কুর্গ। জুনে তাপমাত্রা থাকে ১৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। বর্ষার সময়ে বারাপোলে নদীতে রাফটিংয়ের সুযোগও পাওয়া যায়।

৮. মুন্নার

কেরালার মুন্নার বর্ষায় নতুন রূপে সেজে ওঠে। চা-বাগান, মেঘে ঢাকা পাহাড় এবং সজীব প্রকৃতি মিলিয়ে এটি প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।

৯. মাউন্ট আবু

রাজস্থানের একমাত্র পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র মাউন্ট আবু গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে স্বস্তি দেয়। দিলওয়াড়া জৈন মন্দির, গুরু শিখর এবং নক্কি লেক এখানকার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।

১০. মহাবালেশ্বর

মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বর বর্ষায় সবুজে মোড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। আর্থারস সিট, এলিফ্যান্টস হেড পয়েন্ট এবং লিংমালা জলপ্রপাত পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। এ সময় তাপমাত্রা সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।