কক্সবাজারে দিনভর বৃষ্টির পর মেঘলা আকাশ, শীতল সমুদ্রবাতাস ও গর্জনরত ঢেউয়ের টানে শনিবার বিকেল থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো পর্যটক। বর্ষার মনোরম আবহাওয়া সৈকতজুড়ে এনে দেয় ভিন্নমাত্রার প্রাণচাঞ্চল্য।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সৈকতের তীরজুড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া উপস্থিতি। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও পর্যটকদের উৎসাহে কোনো ভাটা ছিল না। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

জানা গেছে, সকালে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রমে প্রভাব পড়লেও সকাল সাড়ে ১০টার পর বৃষ্টি থেমে যায়। তবে দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন মেঘে ঢাকা আকাশ ও তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া সৈকত ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তোলে।

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সৈকতে হাঁটার তুলনায় মেঘলা আবহাওয়ায় সমুদ্র উপভোগ করা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। এদিনের আবহাওয়া তাদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করেছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা নুসরাত জাহান বলেন, সকালের বৃষ্টি দেখে শুরুতে সৈকতে যেতে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বিকেলে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ মিলেছে। মেঘলা আকাশ আর সাগরের দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করেছে।

চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, তীব্র রোদ না থাকায় দীর্ঘ সময় সৈকতে অবস্থান করেও কোনো অস্বস্তি অনুভব করতে হয়নি। ফলে দর্শনার্থীরা স্বচ্ছন্দে সময় কাটাতে পেরেছেন।

সৈকতে অনেককে সমুদ্রে গোসল করতে দেখা যায়। কেউ ছবি তুলেছেন বালুকাবেলায়, আবার কেউ সাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন নীরবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে সময় কাটিয়েছেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনভর দায়িত্ব পালন করেন সি সেফ লাইফগার্ড সার্ভিসের সদস্যরা। কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে লাইফগার্ডদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

জ্যেষ্ঠ লাইফগার্ড মোহাম্মদ ওসমান বলেন, সকালের বৃষ্টির পর আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিকেল থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, শনিবার ১২ ঘণ্টার সরকারি সফরে কক্সবাজারে অবস্থান করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান। তবে তার সফরের কারণে সৈকত এলাকায় পর্যটকদের চলাচল বা স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি।