বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও পরিবেশগত সংকট যখন ক্রমেই গভীর হচ্ছে, তখন পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন করে সচেতনতা তৈরির আহ্বান নিয়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’।
৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন আলোচনা সভা, র্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থাও পৃথক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
পরিবেশ দিবসের ইতিহাস
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সূচনা হয় ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনের মাধ্যমে। ওই সম্মেলনে পরিবেশ সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হয়।
পরবর্তীতে জাতিসংঘ ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। পরিবেশ বিষয়ে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসেবেও এটি স্বীকৃত।
বাংলাদেশের জন্য বাড়তি গুরুত্ব
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন, বন্যা, খরা এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে।
এর পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ, বায়ুদূষণ, জলাশয় দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিবেশগত সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আহ্বান
অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত, গবেষক, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা, কার্যকর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।