টানা ভারি বর্ষণের কারণে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে চট্টগ্রামের বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের আওতাধীন মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড অঞ্চলের পাহাড়ি ঝরনাগুলো। বৃষ্টির তীব্রতা ও পানির প্রবাহ কমে আসায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় সচেতনভাবে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির সময় পাহাড়ধস এবং প্রবল স্রোতের আশঙ্কায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে সব ঝরনা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় গত ১৪ জুলাই থেকে আবার দর্শনার্থীদের জন্য ঝরনাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
বারৈয়াঢালা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানে মোট ১১টি ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯টিতে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনপ্রিয় ঝরনাগুলোর মধ্যে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, বাওয়াছড়া, সহস্রধারা ও সোনাইছড়া।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঝরনাগুলো পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা এ এলাকায় আসেন। তবে বর্ষাকালে পাহাড়ি পথ, ঝিরিপথ ও ঝরনার উপরের ধাপগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় গাইড এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি প্রকৃতি ভ্রমণও হবে আরও সুশৃঙ্খল।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ঝরনা পুনরায় উন্মুক্ত: ১৪ জুলাই ২০২৬
- জাতীয় উদ্যানে মোট ঝরনা: ১১টি
- পর্যটনের জন্য চালু: ৯টি
- উল্লেখযোগ্য ঝরনা: খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, বাওয়াছড়া, সহস্রধারা ও সোনাইছড়া
- ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ অবস্থা জেনে এবং বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।