পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেন জ্বালানিচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু আধুনিক রেল প্রযুক্তির দিক থেকেই নয়, ভবিষ্যতের টেকসই ভ্রমণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হরিয়ানার ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপাত রুটে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্বোধনের আগে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, "ভারত বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হলো, যাদের কাছে এ ধরনের ট্রেন রয়েছে। রেলপরিবহনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের যাত্রায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

হাইড্রোজেন জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ট্রেনটি চলবে। ফলে প্রচলিত ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় এটি কম দূষণ সৃষ্টি করবে। এতে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও জ্বালানি ভরার বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে ভারতের পরিবেশবান্ধব রেলব্যবস্থা সম্প্রসারণে অভিজ্ঞতা অর্জন করা হবে।

১০ বগির এই ট্রেনের শক্তি ১২০০ কিলোওয়াট। সর্বোচ্চ নকশাগত গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হলেও শুরুতে এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলবে। প্রায় ২ হাজার ৬০০ যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে ট্রেনটিতে। নকশা, নির্মাণ ও পরীক্ষাসহ পুরো প্রকল্প নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে।

জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্ডারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভাম্ভেওয়া, ঈসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খন্ডরাই হল্ট, রাবড়াহ হল্ট, লাঠ হল্ট, মোহানা, বারওয়াসনি হল্ট এবং সোনিপাত নিউ স্টেশনসহ একাধিক স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে ট্রেনটি।

হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের মাধ্যমে ভারত এখন জাপান, জার্মানি, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের কাতারে যোগ দিল। বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেন 'অ্যালস্টম কোরাডিয়া আইলিন্ট' ২০২২ সালে জার্মানিতে চালু হয়। ওই ট্রেন একবার জ্বালানি নিয়েই ১ হাজার ১৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পরিবেশবান্ধব রেল প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেছিল।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • রুট: জিন্দ-সোনিপাত, হরিয়ানা
  • দূরত্ব: ৮৯ কিলোমিটার
  • বগি: ১০টি
  • শক্তি: ১২০০ কিলোওয়াট
  • প্রাথমিক সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার
  • নকশাগত সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার
  • যাত্রী ধারণক্ষমতা: প্রায় ২,৬০০ জন
  • উদ্দেশ্য: পরিবেশবান্ধব ও টেকসই রেলপরিবহন প্রযুক্তি পরীক্ষা