সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য থাকার পরও আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও খুবই সীমিত। এই বাস্তবতায় শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বদলে মানসম্মত অভিজ্ঞতা, স্থানীয় অর্থনীতির অংশগ্রহণ এবং প্রকৃতি ও সংস্কৃতি সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘অর্থবহ পর্যটন’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটন খাতের অংশীজনরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে ‘অর্থবহ পর্যটন: পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে জার্মানির আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. উলফগ্যাং জর্জি আর্ল্ট মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পর্যটকদের পরিবর্তিত চাহিদা ও আচরণের কারণে বিশ্ব পর্যটন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফলে অনেক পুরোনো ব্যবসায়িক মডেল কার্যকারিতা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন সেবা ও নতুন ধরনের পর্যটন গন্তব্য তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।

আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন এখনও অত্যন্ত কম। মাথাপিছু পর্যটক সংখ্যার বিচারে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের সারিতে। ২০২৫ সালে মাত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে ভ্রমণ করেছেন। তাদের ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশের বেশি মানুষের আবাসস্থল বাংলাদেশে হলেও আন্তর্জাতিক পর্যটকের মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ এ দেশে এসেছে।

তারা বলেন, অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে পর্যটন উন্নয়নে সতর্ক পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রকৃতি ও সংস্কৃতির ক্ষতি, অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ এবং পর্যটন আয়ের বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা এড়িয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা হিসেবে আঞ্চলিক পর্যটন বাজারের কথাও উঠে আসে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থান করে। ফলে শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য না রেখে সেবার মান উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক উৎসবাজারের পর্যটকদের জন্য বিশেষায়িত ভ্রমণসেবা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

তাদের মতে, অর্থবহ পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানসম্মত পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা গেলে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠকে টোয়াব, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, এট্যাব, পাটা বাংলাদেশ, বিমান সংস্থা এবং দেশের হোটেল ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।