দেশের অন্যতম সমুদ্র পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটক কমছে। সংকীর্ণ মহাসড়ক, সৈকতের অপরিচ্ছন্নতা, পরিবহন ও আবাসনসংশ্লিষ্ট হয়রানি, খাবারের মান ও মূল্য নিয়ে অভিযোগ এবং উপকূলীয় ভাঙন মিলিয়ে পর্যটকদের আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর সরাসরি ধাক্কা লেগেছে তিন শতাধিক হোটেল-মোটেলসহ পুরো পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে।

পর্যটক কমে যাওয়ায় ন্যূনতম ভাড়ায়ও অতিথি আকর্ষণে হিমশিম খাচ্ছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ট্রলার-স্পিডবোট, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক গাইড, বিচ ফটোগ্রাফার, স্মারক ও হস্তশিল্প বিক্রেতাসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।

ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটার দূরত্ব প্রায় ২৯৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে যাতায়াত স্বস্তিদায়ক হলেও ভাঙ্গা থেকে বরিশালের প্রায় ৯১ থেকে ৯৭ কিলোমিটার এবং বরিশাল থেকে কুয়াকাটার প্রায় ১১৯ কিলোমিটার পথের বড় অংশ ১৮ থেকে ২৪ ফুট প্রশস্ত মহাসড়ক। বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও হাটবাজার থাকায় যাত্রায় সময় ও ভোগান্তি বাড়ছে।

পর্যটকদের অভিযোগ, কুয়াকাটা বাস টার্মিনালে নামার পর অটোরিকশাচালক ও হোটেল কর্মীদের চাপাচাপির মুখে পড়তে হয়। কিছু অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ভাঙা কাচের বোতল, প্লাস্টিক ও খাবারের প্যাকেটসহ বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবের পাশাপাশি কিছু খাবারের দোকানে অতিরিক্ত দাম ও নিম্নমানের খাবার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

তীব্র ভাঙনে গত ৩৬ বছরে কলাপাড়ার এ পর্যটনকেন্দ্রের সৈকতের অন্তত তিন বর্গকিলোমিটার এলাকা সাগরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে রাখা জিও ব্যাগ সৈকতের সৌন্দর্যে প্রভাব ফেলছে এবং পর্যটকদের আহত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, ‘কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো মনোমুগ্ধকর। তবে বাসস্ট্যান্ডে নামার পর অটোরিকশাচালক ও বিভিন্ন হোটেলের দালালদের অতিরিক্ত চাপাচাপি পর্যটকদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এসব সমস্যা দূর করা গেলে এখানে আরও বেশি পর্যটক আসবেন।’

সৈকতে নয় বছর ধরে কর্মরত ফটোগ্রাফার মো. বশির জানান, গত বছরের ঈদে প্রতিদিন চার হাজার টাকা আয় করলেও এবার সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ টাকা আয় হয়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটক সংকটে হোটেল মালিকরা হতাশ। সংকট সমাধানে মহাপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ উল আলম বলেন, কুয়াকাটার সামগ্রিক উন্নয়নে কমিটি গঠন ও মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। সৈকতটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।