বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ সহজ করতে দেশের ভিসা ব্যবস্থা আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন ভিসানীতিতে বিদেশিদের আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি পর্যটন খাত সম্প্রসারণ এবং আধুনিক অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন ভিসানীতির মাধ্যমে বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও দক্ষ জনশক্তির বাংলাদেশে আসা সহজ হবে। এতে পর্যটনসহ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমান ভিসানীতিকে সময়োপযোগী করতে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং দেশকে আরও উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে পরিণত করা সম্ভব হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভিসানীতির অন্যতম লক্ষ্য বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ করা। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রেখে আধুনিক অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি নীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগে গত ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০০৬ সালের ভিসানীতি সংশোধনের খসড়া উপস্থাপন করা হয়। পরে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ ইতোমধ্যে সহজ ও ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভিসা আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সহজ করার প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে।
ভ্রমণসংশ্লিষ্টদের কাছে সহজ ভিসা ব্যবস্থা একটি গন্তব্য বেছে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হলে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহ বাড়তে পারে। বিশেষ করে দেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।