নতুন শহর বা দেশে ভ্রমণে গিয়ে প্রথম রাতেই অনেকের ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। সারাদিনের ক্লান্তি থাকার পরও ঘুম না আসা, মাঝরাতে বারবার জেগে ওঠা বা অস্বস্তি অনুভব করা ভ্রমণকারীদের জন্য পরিচিত অভিজ্ঞতা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, নতুন পরিবেশে প্রথম রাতের এই ঘুমের সমস্যাকে অনেক সময় ‘ফার্স্ট নাইট ইফেক্ট’ বলা হয়। এ সময় মস্তিষ্কের একটি অংশ নতুন পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক থাকায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম রাতেই স্বাভাবিক বা দীর্ঘ সময়ের ঘুমের প্রত্যাশা না করাই ভালো। নতুন পরিবেশের সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কের মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই ঘুম না আসা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করা উচিত।
ভ্রমণের সময় বাসার পরিচিত রাতের অভ্যাস বজায় রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। যেমন, ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা গান শোনা বা অন্য কোনো নিয়মিত অভ্যাস থাকলে সেটি অনুসরণ করলে শরীর সহজে বিশ্রামের সংকেত পায়।
হোটেল বা আবাসনের কক্ষের আলো, তাপমাত্রা ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে পর্দা টেনে দেওয়া, কক্ষের তাপমাত্রা ঠিক করা বা অতিরিক্ত কম্বল ব্যবহার করলে ঘুমের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
অনেক অভিজ্ঞ ভ্রমণকারী নিজের বালিশের কভার, ছোট কম্বল বা পরিচিত কোনো ব্যক্তিগত জিনিস সঙ্গে রাখেন। পরিচিত গন্ধ বা অনুভূতি নতুন পরিবেশে মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
স্থানীয় খাবার উপভোগ করা ভ্রমণের অংশ হলেও ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ভারী বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ ভ্রমণের পর হালকা খাবার শরীরের জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।
ঘুম না এলে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। পর্দার নীল আলো ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এর পরিবর্তে বই পড়া বা শান্ত কোনো অডিও শোনা বেশি কার্যকর হতে পারে।
নতুন গন্তব্যে পৌঁছে দিনের বেলা কিছু সময় বাইরে হাঁটাহাঁটি করলে এবং প্রাকৃতিক আলোতে থাকলে শরীর দ্রুত স্থানীয় সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ বা সময় অঞ্চলের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি উপকারী।
রাতে বারবার ঘড়ি দেখা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে উদ্বেগ বাড়তে পারে এবং ঘুম আরও বিলম্বিত হতে পারে।
হোটেল বা আশপাশের শব্দে সমস্যা হলে ইয়ারপ্লাগ বা শব্দনিরোধক হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যদি স্থানীয় সময় বিকেল বা সন্ধ্যা হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে না পড়ে রাত পর্যন্ত জেগে থাকার চেষ্টা করলে শরীর দ্রুত নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণে প্রথম রাতের ঘুমের সমস্যা সাধারণত সাময়িক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এক থেকে দুই দিনের মধ্যে শরীর নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং ঘুম স্বাভাবিক হয়ে আসে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
• নতুন পরিবেশে প্রথম রাতের ঘুমের সমস্যাকে 'ফার্স্ট নাইট ইফেক্ট' বলা হয়।
• পরিচিত রাতের রুটিন বজায় রাখলে উপকার মিলতে পারে।
• ঘুমানোর আগে ভারী খাবার ও অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
• দিনের আলোতে সময় কাটানো এবং স্থানীয় সময়ের সঙ্গে মানিয়ে চলা ঘুম স্বাভাবিক করতে সহায়ক।