প্রবল বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের কয়েকটি অংশ পানির নিচে চলে গেছে। এ পরিস্থিতিতে রেললাইন থেকে পানি না সরা এবং আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বুধবার চট্টগ্রামের ষোলশহরের শমসের পাড়া এলাকায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শনের পর চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে আছে। এই অবস্থায় ট্রেন চালানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী যেসব যাত্রী আগেই টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তারা টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত পাবেন।
চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণের কারণে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং ষোলশহর এলাকায় রেললাইনের ওপর পানি উঠে যায়।
এ অবস্থায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী 'পর্যটক এক্সপ্রেস' ট্রেনটি পথে আটকে পড়ে। পরে সেটিকে চট্টগ্রাম স্টেশনে ফিরিয়ে এনে যাত্রা বাতিল করা হয়। একইভাবে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা 'কক্সবাজার এক্সপ্রেস'ও বুধবার সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছালেও রেললাইন ডুবে থাকায় কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ওই ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করা হয়।
ফলে দুই ট্রেনের যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
কক্সবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি রেলযোগাযোগ চালু হওয়ার পর পর্যটকদের কাছে এই রুটটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়ে থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ।
রেললাইন থেকে পানি না সরা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
টিকিট কাটা যাত্রীরা সম্পূর্ণ ভাড়া ফেরত পাবেন।
চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে 'পর্যটক এক্সপ্রেস' ও 'কক্সবাজার এক্সপ্রেস'-এর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।