জেট ফুয়েলের দাম গেল তিন মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ কমলেও সেই সুবিধা এখনো পাচ্ছেন না বিমানযাত্রীরা।
জ্বালানির খরচ কমলেও বেশির ভাগ এয়ারলাইন্স এখনো বিমানভাড়া কমানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে দ্য ইন্ডিপনেডেন্টের খবরে বলা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।
হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জেট জ্বালানির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জেট জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
এর প্রভাব দ্রুত পড়ে বিমানভাড়ায়। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ধাপে ধাপে মোট আটবার ভাড়া বাড়ায়। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রুটে আসা-যাওয়ার গড় বিমানভাড়া আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০০ ডলার (প্রায় ১২ হাজার ২০০ টাকা) বেশি ছিল।
তবে পরিস্থিতি এখন বদলাতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করছে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর জেট ফুয়েলের দাম এপ্রিলের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কিন্তু বিমান ভাড়া আছে আগের মতোই।
বিশ্লেষকদের মতে, এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ভ্রমণের চাহিদা এখনো শক্তিশালী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন্স স্পিরিট এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতাও কমেছে। ফলে অন্যান্য এয়ারলাইন্স বাড়তি ভাড়া ধরে রাখতে পারছে।
সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী বব জর্ডান মে মাসে বিনিয়োগকারীদের বলেন, স্পিরিট এয়ারলাইন্স বাজার থেকে সরে যাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধির বড় একটি অংশ ধরে রাখা সম্ভব হবে।
একসময় স্বল্পমূল্যের ভ্রমণের অন্যতম জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স ছিল স্পিরিট। কিন্তু জ্বালানির উচ্চমূল্য, আর্থিক সংকট এবং টানা দুইবার দেউলিয়া হওয়ার পর মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
স্পিরিটের বিদায়ের পর আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, যেসব রুটে তারা স্পিরিটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করত, সেখানে এখন ব্যবসায়িক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
এদিকে জ্বালানির দাম বাড়ার সময় অনেক এয়ারলাইন্স অলাভজনক রুট বন্ধ বা ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দেয়। যদিও এখন জ্বালানির দাম কমেছে, তবুও আগের মতো দ্রুত ফ্লাইট বাড়ানো হয়নি। ফলে আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় ভাড়াও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে যাত্রী চাহিদাও কমেনি। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেমন্ড জেমসের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ভ্রমণের এক সপ্তাহ আগে বুক করা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া আগের বছরের তুলনায় ৩৪.১ শতাংশ বেশি ছিল।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি বলেন, অনেকেই ধারণা করেছিলেন বেশি ভাড়ার কারণে চাহিদা কমবে। কিন্তু বাস্তবে ভ্রমণের চাহিদা এখনো বেশ শক্তিশালী।
এয়ারলাইন্সগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক ভাড়া বৃদ্ধি অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা নয়; বরং দীর্ঘদিন তুলনামূলক কম থাকা ভাড়ার একটি সমন্বয়। তাদের মতে, অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লেও ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিমানভাড়ার মূল্যসূচক সামগ্রিকভাবে ৩.৫ শতাংশ কমেছিল।
তবে যাত্রীরা কতদিন এই বাড়তি ভাড়া মেনে নেবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। মে মাসে পরিচালিত এক জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বিমানভাড়া বাড়তে থাকায় তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুম শেষ হওয়ার পর যদি ভ্রমণ চাহিদা কমে যায় অথবা এয়ারলাইন্সগুলো আবার দ্রুত ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ায়, তাহলে যাত্রী টানতে পুরোনো দিনের মতো ছাড় ও ডিসকাউন্টের প্রতিযোগিতা আবারও ফিরে আসতে পারে।