বান্দরবানের দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ৭৮ জন পর্যটক এবং ৯ জন স্থানীয় গাইডসহ মোট ৮৭ জন আটকা পড়েছেন। সাঙ্গু নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল ও দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উপজেলা সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় অবস্থানরত ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড নিরাপদে ফিরতে না পেরে আটকা পড়েন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ এবং দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নতুন করে ভ্রমণ পরিকল্পনা না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাফাখুম বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন গন্তব্য। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখতে বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু সেখানে যান। তবে এ সময় পাহাড়ি ঢল, নদীর তীব্র স্রোত এবং আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে নাফাখুম, রেমাক্রী ও তিন্দু অঞ্চলে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কারণে প্রশাসন প্রায়ই সাময়িকভাবে এসব এলাকায় পর্যটক প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ করে থাকে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর মাটি ও পাথর ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়ক সচল রাখার কাজ চলছে। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নাফাখুমে আটকা পড়েছেন মোট ৮৭ জন।

এর মধ্যে পর্যটক ৭৮ জন এবং স্থানীয় গাইড ৯ জন।

সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি থেকে তিন্দু ও রেমাক্রীর নৌযোগাযোগ বন্ধ।

আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র ও দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ বন্ধ।