বিমানে অনেক যাত্রী শুধু কেবিন ব্যাগ নিয়ে যেতে চান। এতে চেক-ইন লাগেজের অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়। তবে অতিরিক্ত ও ভারী হাতব্যাগ এখন বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন সাবেক পাইলট ও বিমান চলাচল নিরাপত্তা গবেষক নাতাশা হিপ।
তার একটি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট লিখেছে, হাত-ব্যাগের কারণে বোর্ডিংয়ে দেরি হয়, কেবিনে জায়গার সংকট তৈরি হয় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কেবিন ব্যাগেজের নিয়ম আরও কঠোর করছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নতুন নিয়ম চালু করেছে। ইকোনমি শ্রেণির যাত্রীরা এখন সর্বোচ্চ ৮ কেজি ওজনের একটি কেবিন ব্যাগ এবং আসনের নিচে রাখা যায়—এমন একটি ছোট ব্যক্তিগত ব্যাগ নিতে পারবেন। এর আগে এয়ার কানাডাও কিছু রুটে বেসিক ভাড়ার যাত্রীদের জন্য কেবল একটি ব্যক্তিগত ব্যাগ বহনের অনুমতি দেয়।
তবে সব এয়ারলাইন্সের নিয়ম এক নয়। একই ধরনের বিমানে ভ্রমণ করলেও টিকিটের ধরন ও এয়ারলাইন্সভেদে কেবিন ব্যাগের সংখ্যা ও ওজনের সীমা ভিন্ন হতে পারে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে।
এর অন্যতম কারণ বিমানের সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন। প্রতিটি বিমানের নিরাপদে উড্ডয়নের জন্য নির্দিষ্ট ওজনসীমা রয়েছে। এই ওজনের মধ্যে বিমানের নিজস্ব ওজন, জ্বালানি, খাবার, কার্গো, ক্রু, যাত্রী এবং তাদের লাগেজ—সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে।
চেক-ইন লাগেজের ওজন সহজেই মাপা যায়। কিন্তু কেবিন ব্যাগের ক্ষেত্রে সাধারণত যাত্রীপ্রতি নির্ধারিত গড় ওজন ধরে হিসাব করা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে বড় যাত্রীবাহী বিমানের ক্ষেত্রে প্রতিজনের কেবিন ব্যাগের মানক ওজন ৭ কেজি ধরা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা সীমা নির্ধারণ করতে পারে। এ কারণেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়মে পার্থক্য দেখা যায়।
স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থাগুলোর উত্থানের পর অতিরিক্ত লাগেজ, খাবার, ওয়াই-ফাইসহ বিভিন্ন সেবা থেকে আয় এখন এয়ারলাইন্সগুলোর বড় আয়ের উৎস। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কেবিন ব্যাগের সীমা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারী ব্যাগ ওভারহেড লকারে তুলতে গিয়ে কেবিন ক্রুরা প্রায়ই পিঠ ও কাঁধে আঘাত পান। আবার বোর্ডিংয়ের সময় বড় ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে গিয়ে দেরি হয়। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় জরুরি অবস্থায়। দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রী ব্যাগ সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা দ্রুত বিমান খালি করার কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসই শুধু সঙ্গে রাখুন এবং কেবিন ব্যাগ যতটা সম্ভব হালকা রাখুন। এতে সময়মতো ফ্লাইট ছাড়ার সম্ভাবনা বাড়বে, নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।