বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়ে। তবে একই সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ায় শহরের পাশাপাশি পর্যটন এলাকাতেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া জরুরি।

বর্ষার সময় পাহাড়, সমুদ্র, চা-বাগান কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন অনেকে। কিন্তু নতুন পরিবেশে অবস্থানের কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস বা কটেজে থাকার সময় পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

আবাসন বাছাইয়ে পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দিন

হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের সময় শুধু ভাড়া বা সুযোগ-সুবিধা নয়, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখুন। কক্ষে মশার জালি আছে কি না, অতিরিক্ত মশার উপস্থিতি রয়েছে কি না, বারান্দা বা আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না এবং বাথরুম পরিষ্কার কি না, তা দেখে নিন। প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করুন।

দিনের বেলাতেও সতর্ক থাকুন

ডেঙ্গু ছড়ানো এডিস মশা সাধারণত সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশি সক্রিয় থাকে। তাই ভ্রমণের সময় পূর্ণহাতা জামা, লম্বা প্যান্ট এবং সম্ভব হলে হালকা রঙের পোশাক পরুন। শিশুদের হাত-পা যতটা সম্ভব ঢেকে রাখুন। পাহাড়ি এলাকা, বনাঞ্চল ও সবুজ পরিবেশে দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া জরুরি।

সঙ্গে রাখুন প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী

ভ্রমণের ব্যাগে মশা প্রতিরোধক লোশন বা স্প্রে, শিশুদের উপযোগী রিপেলেন্ট, প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক মশা প্রতিরোধক যন্ত্র এবং গ্রামীণ বা ক্যাম্পিং ভ্রমণের ক্ষেত্রে হালকা মশারি রাখতে পারেন। শিশুদের জন্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই পণ্যের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

খোলা পরিবেশে সময় কাটানোর সময় সচেতনতা

অনেক পর্যটনকেন্দ্রে খোলা জায়গায় খাবার খাওয়া বা সন্ধ্যায় আড্ডা দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে মশার উপদ্রব বেশি হলে দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান না করাই ভালো। প্রয়োজন হলে রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন এবং শিশুদের মশাপ্রবণ এলাকায় দীর্ঘ সময় খেলতে দেবেন না।

পানি জমতে দেবেন না

দীর্ঘ সময় কোথাও অবস্থান করলে বারান্দা, কটেজ বা আশপাশে পানি জমে আছে কি না, খেয়াল রাখুন। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাপ, বোতল বা পাত্র এমনভাবে ফেলুন বা রাখুন যাতে সেখানে বৃষ্টির পানি জমতে না পারে।

অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন

ভ্রমণের সময় হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীর বা জোড়ায় ব্যথা, বমিভাব কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে যান। ভ্রমণ শেষে কয়েক দিনের মধ্যে জ্বর এলেও চিকিৎসককে অবশ্যই সাম্প্রতিক ভ্রমণের তথ্য জানান। এতে রোগ নির্ণয়ে সুবিধা হয়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

গরম আবহাওয়া ও দীর্ঘ ভ্রমণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওরস্যালাইন, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করাও উপকারী হতে পারে।

শিশু ও প্রবীণদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

শিশু, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিয়মিত পানি পান করানো এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদ ভ্রমণের জন্য মনে রাখুন

পরিচ্ছন্ন আবাসন বেছে নিন।

দিনের বেলাতেও মশা থেকে সুরক্ষিত থাকুন।

রিপেলেন্ট ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী সঙ্গে রাখুন।

কোথাও পানি জমতে দেবেন না।

জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।