দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ঐতিহাসিক ধর্মপুর শালবনকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। বন বিভাগ ও পর্যটন বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে প্রায় ২ হাজার ৭০৬ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত এই জাতীয় উদ্যান উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে যেমন প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনের বিকাশ ঘটবে, তেমনি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দিনাজপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধর্মপুর শালবন দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। সারি সারি শালগাছ, পাখির কোলাহল এবং সবুজে ঘেরা নৈসর্গিক পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে এলাকাটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০২১ সালে ধর্মপুর শালবনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে বন সংরক্ষণ এবং পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, দর্শনার্থীদের জন্য মৌলিক সুবিধা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
তবে বনভূমির সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখাই বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ধর্মপুর বিট কর্মকর্তা কনক সরকার জানান, রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির প্রভাবে কিছু বনভূমি বেদখল হলেও প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত বনের ৩২৫ একর বেদখল হওয়া জমির মধ্যে প্রায় ২১৯ একর উদ্ধার করে সেখানে সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলা হয়েছে। অবশিষ্ট ১০৬ একর জমি উদ্ধারের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, ধর্মপুর শালবনকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। দ্রুতই সরকার এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে হাঁটার পথ, বিশ্রামাগার, তথ্যকেন্দ্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে ধর্মপুর শালবন টেকসই প্রকৃতি পর্যটনের একটি সফল উদাহরণ হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
অবস্থান: বিরল উপজেলা, দিনাজপুর
জেলা সদর থেকে দূরত্ব: প্রায় ১৬ কিলোমিটার
আয়তন: প্রায় ২ হাজার ৭০৬ হেক্টর
জাতীয় উদ্যান ঘোষণা: ২০২১ সাল
বেদখল জমি: ৩২৫ একর
উদ্ধার করা হয়েছে: প্রায় ২১৯ একর
উদ্ধার কার্যক্রম চলমান: ১০৬ একর