বিশ্বের অনেক দেশে ট্রেন বা বাসে সহজেই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়া যায়। তবে অনেক পর্যটকের কাছে অজানা বা প্রত্যন্ত গন্তব্য ঘুরে দেখার জন্য গাড়িতে সড়কপথে ভ্রমণই সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
কিন্তু সব দেশের সড়ক সমান নিরাপদ নয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বীমা প্রতিষ্ঠান জেগো এর নতুন এক বিশ্লেষণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কপথের দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক।

জেগোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেন সারের বরাতে ট্রাভেল লেইজার লিখেছে, বিদেশে গাড়ি চালানো মানেই ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়া।
তার ভাষায়, “প্রতিটি দেশের সড়কের অবস্থা, চালকদের আচরণ এবং আইন প্রয়োগের ধরন আলাদা। অনেক চালক বুঝতে পারেন না, অপরিচিত ট্রাফিক চিহ্ন, ভিন্ন গতিসীমা কিংবা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর আইন কত দ্রুত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশে সামান্য দুর্ঘটনাও বড় জটিলতায় পরিণত হতে পারে।”

তালিকা হয়েছে যেসব মানদণ্ডে
প্রতিবেদনটি তৈরির সময় সড়কপথে ভ্রমণের জনপ্রিয় দেশগুলোকে বেছে নেওয়া হয়। এরপর প্রতিটি দেশের সর্বোচ্চ গতিসীমা, সড়কের মান, নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর আইনি সীমা ও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের মতো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তুরস্ক
বিশ্লেষণে ১০-এর মধ্যে ৮.৫৩ স্কোর নিয়ে তুরস্ক সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উঠে এসেছে।
দেশটিতে প্রতি এক লাখ যানবাহনের বিপরীতে ২০.৯৯ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ২৭২ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা গবেষণার অন্য সব দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
এটি ইতালির তুলনায় প্রায় ২১০ শতাংশ এবং স্পেনের তুলনায় ২৬০ শতাংশ বেশি প্রাণহানির হার।

যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় অবস্থানে
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্কোর ৮.১৫। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে ৪৪ হাজার ১৯৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২০ লাখের বেশি মানুষ।
প্রতি এক লাখ যানবাহনের বিপরীতে ১৭.০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ফ্রান্সের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
গবেষকরা মনে করছেন, এর একটি কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালকোহল পান করেও অনেক অঙ্গরাজ্যে গাড়ি চালানো আইনগতভাবে অনুমোদিত। অন্যদিকে ইতালি, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির মতো দেশে এ বিষয়ে অনেক কঠোর আইন রয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সড়কের মানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ৭-এর মধ্যে ৫.৮৭ স্কোর পেয়েছে, যা গবেষণায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অর্থাৎ, ঝুঁকি মূলত খারাপ সড়কের কারণে নয়; বরং বিশাল সড়ক নেটওয়ার্ক, দীর্ঘ দূরত্ব এবং বিপুল যান চলাচলের কারণে।

ইতালি আছে তৃতীয় স্থানে
৭.৫১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে প্রতি এক লাখ যানবাহনের বিপরীতে ৬.৭৫ জন নিহত এবং ৫২০ জনের বেশি আহত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর মধ্যে ইতালি মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের কাতারে রয়েছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১০ দেশের তালিকায় বাকি সাতটি দেশ হলো— গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্স।

ভ্রমণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই
প্রতিবেদনটি সতর্কতা হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশে সড়কপথে ভ্রমণ করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিদেশে গাড়ি চালানোর আগে স্থানীয় ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালান, সিটবেল্ট ব্যবহার করুন এবং সবসময় সতর্ক থাকুন। তাহলেই আন্তর্জাতিক সড়ক ভ্রমণ হতে পারে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক।