বর্ষার মৌসুমে কক্সবাজার উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের একটি গোলাপি-সাদা নাগবল্লী গাছ এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুলে আচ্ছাদিত এই শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও আলোকচিত্রপ্রেমীরা।
কক্সবাজার উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের পুকুরপাড়ে থাকা নাগবল্লী গাছটি বর্তমানে পূর্ণ প্রস্ফুটিত অবস্থায় রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছটিতে যেন পাতাই নেই। ঘন গোলাপি ও সাদা ফুলের মতো রঙিন বৃতি পুরো গাছকে ঢেকে রেখেছে, যা দেখতে বিশাল এক ফুলের তোড়ার মতো মনে হয়।
বর্ষাকালেই গাছটি সবচেয়ে বেশি ফুলে ভরে ওঠে। এ সময় কেন্দ্রে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই গাছটির সামনে ছবি তুলছেন এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদও স্থানীয় পর্যটনের আকর্ষণ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
উদ্ভিদবিদদের মতে, নাগবল্লী রুবিয়াসি গোত্রের একটি শোভাবর্ধনকারী গুল্ম বা ছোট আকারের বৃক্ষ। এর আদি নিবাস ফিলিপাইন হলেও বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এটি চাষ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে রঙিন ফুলের আবরণ ধরে রাখার ক্ষমতার কারণে এটি ল্যান্ডস্কেপ নকশায়ও জনপ্রিয়।
নাগবল্লীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাতের মধ্যে রয়েছে ডোনা লুজ (গোলাপি), ডোনা অ্যালিসিয়া (গাঢ় গোলাপি), কুইন সিরিকিট (হালকা গোলাপি), ডোনা অরোরা (সাদা) এবং ডোনা ইভা (গাঢ় লাল)। এসব জাত দীর্ঘস্থায়ী ও দৃষ্টিনন্দন ফুলের জন্য পরিচিত।
কক্সবাজার উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপসহকারী উদ্যানতত্ত্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবর হোসেন সিদ্দিকী বলেন, কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "পরিণত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে নতুন চারা উৎপাদন করা হয়। এর মাধ্যমে বিরল ও শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদের সংরক্ষণ এবং চাষ সম্প্রসারণে কাজ চলছে।"
তিনি আরও জানান, যথাযথ পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে নাগবল্লী দীর্ঘ সময় ধরে ফুলে ভরা থাকে। তাই এটি কেন্দ্রে আসা দর্শনার্থীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
যা জানা দরকার
- অবস্থান: কক্সবাজার উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্র
- আকর্ষণ: পূর্ণ প্রস্ফুটিত গোলাপি-সাদা নাগবল্লী
- ফুল ফোটার প্রধান সময়: বর্ষাকাল
- বিশেষত্ব: দীর্ঘস্থায়ী রঙিন বৃতি, ছবি তোলার জন্য জনপ্রিয়
- আদি নিবাস: ফিলিপাইন